প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সব নাগরিকের জন্য ডিজিটাল প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা। তারা বলেছেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রবেশগম্যতাকে বিবেচনা করতে হবে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ভবনে ডিজিটাল প্রবেশগম্যতা নিরীক্ষার ফলাফল নিয়ে আয়োজিত জাতীয় ডিসেমিনেশন সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩-এ প্রবেশগম্যতার বিধান থাকলেও বর্তমান প্রযুক্তিগত বাস্তবতায় ডিজিটাল প্রবেশগম্যতার প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো এতে যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তাই সব ডিজিটাল পণ্য ও সেবা, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং ওয়েবসাইটে প্রবেশগম্যতা বাধ্যতামূলক করতে আইন প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
তারা বলেন, মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে তাদের পিছিয়ে রাখার সুযোগ নেই। তথ্য, সরকারি সেবা, আর্থিক সেবা, সংবাদসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাদের সমান, স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ডিজিটাল প্রবেশগম্যতা অপরিহার্য।
বক্তারা আরও বলেন, জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে ডিজিটাল সেবা থেকে বাদ দেওয়া হলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হবে।
ভিজ্যুয়ালি ইমপেয়ার্ড পিপলস সোসাইটি (ভিআইপিএস) ম্যানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ক্রিশ্চিয়ান এইডের সহায়তায় শনিবার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ইন্টেলিয়ন টেকব্রিজের নির্বাহী পরিচালক এবং ভিআইপিএসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান অমিত বলেন, ছয়টি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত প্রবেশগম্যতা নিরীক্ষায় প্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত হয়েছে। প্ল্যাটফর্মগুলো হলো প্রথম আলোর মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, পূবালী ব্যাংকের অফিসিয়াল ব্যাংকিং ওয়েবসাইট, নগদ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, পাঠাও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ওয়েবসাইট এবং ফ্যামিলি ই-কোর্ট ওয়েবসাইট।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত ডিজিটাল প্রবৃদ্ধির সঙ্গে প্রবেশগম্যতার বিষয়েও শক্তিশালী অঙ্গীকার থাকতে হবে। শনাক্ত হওয়া অধিকাংশ প্রতিবন্ধকতা বড় ধরনের পুনঃনকশা ছাড়াই প্রযুক্তিগতভাবে সমাধান করা সম্ভব। এজন্য প্রবেশগম্যতাকে পরবর্তী বিষয় হিসেবে না দেখে ক্রয়প্রক্রিয়া, নকশা, উন্নয়ন, পরীক্ষা এবং চলমান পর্যবেক্ষণের প্রতিটি ধাপে যুক্ত করতে হবে।
আশিকুর রহমান অমিত আরও বলেন, ডিজিটাল সেবাগুলো যেন সব নাগরিকের জন্য সমান, স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে, সেজন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। ডিজিটাল শাসন ও সেবার মানের মৌলিক প্রয়োজনীয়তা হিসেবেও প্রবেশগম্যতাকে স্বীকৃতি দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির সচিব আবু সাঈদ মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ডিজিটাল অধিকার এগিয়ে নিতে তিনি ভূমিকা রাখার আশ্বাস দেন।
সভাপতির বক্তব্যে ভিআইপিএসের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন মজুমদার বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রসারে গণমাধ্যমসহ সব অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যদি মূলধারার সমাজ থেকে বাদ পড়ে থাকেন, তাহলে জাতীয় উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার সাংবিধানিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও উন্নত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
সভায় ম্যানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শেখ গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, ভিআইপিএসের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আল আমিন, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক গোলাম রব্বানী, ফ্রেন্ডশিপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার নুসরাত জেরিন জয়া এবং কয়েকজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বক্তব্য দেন।