জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে আইন প্রয়োগ ও মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান এবং সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সময়ে দায়ের করা হয়েছে ২০টি মামলা।
ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় এ সময়ে সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাধ্যতামূলক নিবন্ধন না করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ ও পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণক দেখাতে ব্যর্থ হওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঢাকার বাইরে লক্ষ্মীপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর, ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও নীলফামারী জেলায় ১৪টি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
এসব প্রতিষ্ঠানে পায়ে মাড়িয়ে চানাচুর তৈরি, পোড়াতেল ব্যবহার, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা ও ছারপোকার বিচরণ, অনুমোদনহীন ঘি ব্যবহার, বিরিয়ানি তৈরিতে কেওড়াজল ব্যবহার, পণ্যে লেবেল না থাকা এবং নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদনের মতো অনিয়ম পাওয়া যায়। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১২ সেপ্টেম্বর পাবনা ও সিলেটে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পৃথকভাবে সামারি ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়। পাবনায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এবং নিরাপদ খাদ্য অফিসারের উপস্থিতিতে পরিচালিত অভিযানে খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়ায় ২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, সিলেটের বিসিক শিল্পনগরী, খাদিমনগরে অবস্থিত দুটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান কোনো অসঙ্গতি পাওয়া যায়নি। অপর প্রতিষ্ঠানে খাদ্য সংরক্ষণ ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়। এ কারণে ৭ দিনের মধ্যে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সারাদেশে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১৯৬টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং করা হয়।
এসব মনিটরিংয়ের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বিএফএসএ। বাংলাদেশ টেলিভিশনে সচেতনতামূলক টিভিসি ও স্ক্রলবার্তা প্রচারের পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক বিভিন্ন অডিওবার্তা প্রচার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে আইন প্রয়োগ, নিয়মিত মনিটরিং, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, গবেষণা, গণসচেতনতামূলক প্রচারণা এবং অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।
তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যবসায়ী, উৎপাদক, ভোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম আরও ব্যাপক ও কার্যকরভাবে অব্যাহত থাকবে।