সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়িতে দুটি মামলা, ‘হয়রানির চেষ্টা’ দাবি

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

ঢাকায় কর্মরত সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষক মো. আবুল হোসেন ওরফে এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট মামলা দুটি করা হলেও ১৩ সেপ্টেম্বর বিষয়টি জানাজানি হয়। মামলা করার বিষয়টি গোপন রেখে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুক।

খাগড়াছড়ি সদর থানার মামলা দুটির মধ্যে একটি করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সম্প্রতি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এম এন আবছার। ৩০ আগস্ট করা মামলাটি থানায় ১৭ নম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। এতে এ এইচ এম ফারুকের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে লেখালেখির অভিযোগও আনা হয়েছে।

অপর মামলাটি করেছেন খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি এইচ এম প্রফুল্ল। একই দিনে করা মামলাটি ১৮ নম্বর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে মামলা দুটিকে ‘হয়রানির চেষ্টা’ হিসেবে দেখছেন এ এইচ এম ফারুক। তিনি দাবি করেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সমালোচনামূলক লেখালেখি ও বক্তব্য দিয়েছেন। এসব কারণে বিএনপির অভ্যন্তরের কিছু গ্রুপ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

ফারুক বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা করছেন তিনি। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা, রোহিঙ্গা সংকট এবং ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা করছেন। পাশাপাশি জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিত উপসম্পাদকীয় ও কলাম লেখেন এবং টেলিভিশনের টকশোতে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে লেখালেখি করেন বলে জানান তিনি।

নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে ফারুক বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তার অভিযোগ, দলীয় অভ্যন্তরের কিছু গ্রুপের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করায় তিনি তাদের বিরাগভাজন হয়েছেন। এ ছাড়া দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়মে জড়িত বলে যাদের সমালোচনা করেছেন, তারাও তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ফারুক বলেন, ‘আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার সবার আছে। আইনগতভাবেই এসব মামলা মোকাবিলা করা হবে।’ তবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তার বিরুদ্ধে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ও পরিবারের সদস্যদের ফোন ট্র্যাকিং করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এ এইচ এম ফারুক বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সদস্য এবং ঢাকাস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি। তিনি খাগড়াছড়ির স্থায়ী বাসিন্দা হলেও ২০০৯ সাল থেকে ঢাকায় কর্মরত। এর আগে ২০০৯ ও ২০১১ সালেও হামলা ও মামলার শিকার হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত