‘এমএন লারমার বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের আদর্শ এখনও প্রাসঙ্গিক’

ড. আমেনা মহসিন বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নকালে একা দাঁড়িয়ে এমএন লারমা ভিন্ন জাতির অধিকারের কথা তুলে ধরেছিলেন।

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

বহুত্ববাদী রাষ্ট্র গঠন ও শোষিত-নিপীড়িত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিপ্লবী মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার (এমএন লারমা) সংবিধান দর্শন আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি তার সমসাময়িক সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রহমান মিলনায়তনে এমএন লারমার ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘জাত্যভিমানী সংবিধানের খেরোখাতায় মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার সংবিধান দর্শন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. আমেনা মহসিন বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নকালে একা দাঁড়িয়ে এমএন লারমা ভিন্ন জাতির অধিকারের কথা তুলে ধরেছিলেন। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা এনে তিনি সংবিধানের ত্রুটি বিশ্লেষণ করেছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পাহাড়ে গণতন্ত্রের চর্চা কতটুকু হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

 এমএন লারমার ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা। ছবি: সংগৃহীত

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক পাভেল পার্থ। তিনি বলেন, এমএন লারমার দর্শন ছিল বৈজ্ঞানিক বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের ধারক। তবে রাষ্ট্র কলোনিয়াল শাসন দীর্ঘস্থায়ী করতে উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর হীন ন্যারেটিভ তৈরি করছে।

গবেষক ফিরোজ আহমেদ বলেন, এমএন লারমা গণপরিষদে বহুত্ববাদী রাষ্ট্র গঠনে সোচ্চার ছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামকে সামরিক ও আমলাতান্ত্রিক বাণিজ্যের কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মারুফ মল্লিক বলেন, ১৯৭২ সালের চাপিয়ে দেওয়া বাঙালি জাতীয়তাবাদ গ্রহণযোগ্য নয়। ২৪-এর অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ভুলগুলো শুধরে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ এসেছে।

উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মনিরা ত্রিপুরার সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন দীপায়ন খীসা, ড. ঈশিতা দস্তিদার এবং মেইনথিন প্রমীলা। বক্তারা অবিলম্বে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান ও পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত