উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রতীক পাবে না কোনো পক্ষ

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৭ এএম

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলটির ভেতরে বড় ধরনের বিদ্রোহে ভাঙন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে। সেই দ্বন্দ্বের জেরে রাজ্যটিতে আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনে দলের ঐতিহ্যবাহী জোড়া ফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না কোনো পক্ষই। দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে দলের ওপর কার অধিকার থাকবে, তা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো পক্ষই এই প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। একই সঙ্গে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটিও উপনির্বাচনে ব্যবহার করতে পারবে না কোনো পক্ষ। দুই পক্ষকে বিকল্প প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ১৯৬৮ সালের ‘নির্বাচনী প্রতীক (সংরক্ষণ ও বরাদ্দ) আদেশ’-এর ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে এক নির্দেশিকায় জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৯ অক্টোবর।

ফলে ২৮ বছর পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গের কোনো নির্বাচনে ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক ছাড়াই লড়তে হবে তৃণমূলের দুই পক্ষকে। তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক ও দলের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে গত বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের শুনানি হয়। উভয় পক্ষের পাঁচজন করে মোট ১০ জন প্রতিনিধি শুনানিতে অংশ নেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন অরূপ রায়, আমন ঝা, আখতারুজ্জামান ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ ও একজন আইনজীবী।

শুনানি শেষে কমিশন জানায়, জোড়া ফুল প্রতীক আপাতত স্থগিত করে রাখা হবে। দলের নাম, প্রতীক, তহবিল ও অন্যান্য সম্পদের মালিকানা নিয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কমিশন বলছে, উপনির্বাচনের জন্য সময় কম থাকায় এই মুহূর্তে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তাই দুই পক্ষকে সমান অবস্থানে রাখতে এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে দুই পক্ষকেই নিজেদের জন্য আলাদা তিনটি নামের বিকল্প এবং তিনটি মুক্ত প্রতীকের প্রস্তাব কমিশনে জমা দিতে হবে। তারা চাইলে নতুন নামের সঙ্গে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর নামের যোগসূত্র রাখতে পারবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত