গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্কের সমঝোতা

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক। গ্রিনল্যান্ড দখলে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে কূটনৈতিক সংকট তৈরি করেছিলেন, এই সমঝোতার মধ্য দিয়ে তার অবসানের পথ তৈরি হয়েছে। খবর বিবিসির। 

ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তির আওতায় ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ পাবে।

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারাও অঞ্চলটির নিরাপত্তা জোরদারে সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা। তবে চুক্তির বিস্তারিত কোনো পক্ষই প্রকাশ করেনি।

জাতীয় নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে কয়েক মাস ধরেই গ্রিনল্যান্ড ‘দখলে নেওয়ার’ হুমকি দিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। প্রতিরক্ষার জন্য দ্বীপটির অবস্থান এবং সেখানে থাকা বিপুল খনিজ সম্পদের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছিলেন তিনি।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো খরচ হবে না। গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সুরক্ষায় ‘যা প্রয়োজন, তা করার’ ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র পাবে।

তিনি আরও বলেন, চুক্তিতে এমন একটি বিধান থাকবে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো মার্কিন প্রতিপক্ষ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে বা সংবেদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে না।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, তিন পক্ষের জন্য একটি ভালো সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েনস-ফ্রেডেরিক নিলসেনকে সঙ্গে নিয়ে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, এই চুক্তি আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা জোরদার করবে। একই সঙ্গে ডেনমার্কের রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও স্বীকৃত হবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর তা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত