দামি আইফোন ছিনিয়ে নিতে মাথায় লাঠির আঘাতে কুমিল্লায় কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি পুলিশি তদন্তের এই তথ্য তুলে ধরেন।
এসপি জানান, আলোচিত ওই হত্যার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ, কামরুল এবং সিয়ামসহ মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এরমধ্যে তুহিনের বাসা থেকে নিহত অপ্রতিমের মা’র আইফোন উদ্ধার করা হয় বলে জানান এসপি।
সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা এসপি আনিসুজ্জামান জানান, গত ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে পূর্বপরিচিত তুহিন ফুঁসলিয়ে অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায়। উদ্দেশ্য ছিল আইফোন ছিনতাই। অপ্রতিম ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানালে তুহিন ও তার দুই সহযোগী মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) এবং কামরুল হাসান মিলে বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর রক্তমাখা হাতেই তারা আইফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
নিখোঁজের পর অপ্রতিমের পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তুহিনকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে আইফোন লুকিয়ে রাখার স্থান নিয়ে তিনবার ভুল তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তবে কড়া জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত সে হত্যার দায় স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিজ বাড়ি থেকে আইফোনটি উদ্ধার এবং সহযোগী ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিয়াম (১৯) নামের আরেক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।
এসপি আনিসুজ্জামান আরও জানান, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন শেষ, এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হবে। আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে আদালতের কাছে দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির আবেদন জানাবে পুলিশ।
এর আগে এ দিন অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচারে পুলিশ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আলামত জব্দ করা হয়েছে। প্রধান আসামি তুহিন ইতোমধ্যেই হত্যার দায় স্বীকার করেছে। রামিশা হত্যার মতো কুমিল্লার অপ্রতিম হত্যার বিচারের জন্য সহযোগিতা করবে পুলিশ।
তিনি বলেন, ‘নিহত অপ্রতিমের সঙ্গে কিশোর অপরাধ চক্রের সদস্যদের চলাফেরা ও ওঠাবসা ছিলো। তারা অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছরের বড়। প্রধান আসামি তুহিনের কাছ থেকে অপ্রতিমের আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে।’ তুহিন হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি।
মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। নিখোঁজের এক দিন পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) দক্ষিণে লালমাই পাহাড়ের গভীরে মিলেছে তার লাশ।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সোয়া ১১টায় কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতিতে অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে সকাল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অপ্রতিমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ও দাফনে শোকস্তব্ধ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়রা অংশ নেন।
অপ্রতিম হত্যায় ১২ ঘণ্টায় মূল আসামিদের গ্রেপ্তার, তুহিনের দায় স্বীকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে কুবি শিক্ষার্থীদের মিছিল
সিসিটিভির ফুটেজের সূত্রে অপ্রতিম হত্যার তদন্তে পুলিশ