মানবতাবিরোধী অপরাধ

জাফর ইকবালসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় পাঁচজনকে হত্যার অভিযোগসহ উসকানি ও প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে আটজনের বিরুদ্ধে।

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামালসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাফর ইকবাল ও মাকসুদ কামালসহ আটজনের বিরুদ্ধে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল।

পরোয়ানাভুক্ত অপর তিন আসামি হলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান এবং ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন।

ট্রাইব্যুনাল পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আগামী ২২ অক্টোবর হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ মামলার অপর তিন আসামি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন এবং ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

সম্প্রতি এই আট আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকায় পাঁচজনকে হত্যার অভিযোগসহ অপরাধে উসকানি ও প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মঈনুল করিম।

প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মোবাইলে কথোপকথনের পর মাকসুদ কামাল ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের সময় তাদের রক্ষায় মাকসুদ কামাল কোনো ব্যবস্থা নেননি।

প্রসিকিউটর আরও অভিযোগ করেন, জাফর ইকবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে ‘রাজাকার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তাদের মুখ দেখতে চাননি। এসব হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি নীরব ছিলেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সহায়তা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন প্রসিকিউশন।

এ ছাড়া মামলার অন্যান্য আসামিরা সরাসরি অপরাধে অংশ নেওয়া এবং নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত