অক্সফোর্ড-ক্যামব্রিজকে টপকে সেরা ইম্পেরিয়াল কলেজ

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২০ এএম

যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ ‘দ্য টাইমস অ্যান্ড দ্য সানডে টাইমস গুড ইউনিভার্সিটি গাইড ২০২৭’ এ সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেতাব অর্জন করেছে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন। তিনটি ধাপ এগিয়ে এ বছরের সেরার সম্মান অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। পাশাপাশি গাইডের সার্বিক জাতীয় র‌্যাংকিংয়েও ইম্পেরিয়াল ষষ্ঠ অবস্থান থেকে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠানটি অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ দুই বিশ্ববিদ্যালয়কেই পেছনে ফেলেছে। আর গুড ইউনিভার্সিটি গাইডের ৩৩ বছরের ইতিহাসে এই নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বার শীর্ষ তিনের বাইরে থাকল বিশ্ব খ্যাত এই দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

ইম্পেরিয়াল কলেজ আরও দুটি বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি কর্মসংস্থানের জন্য বছরের ‘সেরা বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং চিকিৎসা শিক্ষার জন্য ‘মেডিকেল স্কুল অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছে। গাইডের হিসেব অনুযায়ী, ইম্পেরিয়াল কলেজের ৯০ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রথম শ্রেণি বা দ্বিতীয় শ্রেণির উচ্চতর ফল অর্জন করেছেন। আর ৯৩ শতাংশ স্নাতক উচ্চ দক্ষতার চাকরি বা উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টির দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার হার ৯৫ দশমিক ৯ শতাংশ; যা প্রতিষ্ঠানটির উচ্চশিক্ষার মান ও সাফল্যের একটি বড় উদাহরণ। তিনটি প্রধান খেতাব পাওয়ার পাশাপাশি ইম্পেরিয়াল কলেজ অত্যন্ত প্রশংসিত ‘রাসেল গ্রুপ ইউনিভার্সিটি অব দ্য ইয়ার’ এবং লন্ডনের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় রানার-আপ হয়েছে।

গুড ইউনিভার্সিটি গাইড ২০২৭ এর একটি জাতীয় র‌্যাংকিংও করেছে। এ তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বিশ্ববিদ্যালয়। দ্বিতীয় স্থানে আছে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স (এলএসই)। ইম্পেরিয়াল কলেজ আছে তৃতীয় স্থানে। আর যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছে ক্যামব্রিজ এবং অক্সফোর্ড। লন্ডনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এলএসই প্রথম এবং জাতীয়ভাবে দ্বিতীয়। গুড ইউনিভার্সিটি গাইড-শিক্ষা প্রদানের গুণমান, শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা, ডিগ্রি অব্যাহত রাখার হার এবং স্নাতকদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন মানদণ্ড ব্যবহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়ন করে। ২০২৭ সালের সংস্করণে ১৩৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি এবং ৭০টি বিষয়ভিত্তিক তালিকার পাশাপাশি এতে গবেষণা সংক্রান্ত সুনাম, সুযোগ-সুবিধা এবং বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তার মতো বিষয়গুলোর তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গুড ইউনিভার্সিটির গাইডের সম্পাদক হেলেন ডেভিস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন গঠনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তার মতে, উচ্চ শিক্ষা খাত বর্তমানে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে রয়েছে আর্থিক সংকট। নতুন স্নাতকরা গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে চাকরির বাজারের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। ২০২৬ সালে গুড ইউনিভার্সিটি গাইডের তালিকায় শীর্ষ স্থানে ছিল লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স। আর ইউনিভার্সিটি অব দ্য ইয়ার খেতাব জিতেছিল ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত