আশ্বিনের প্রথমভাগের মুষলধারে বৃষ্টিতে ডুবেছে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকা। ভোর থেকে টানা বৃষ্টিতে কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। এতে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। পানি ও যানজটে ধীর হয়ে যায় নগরীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিভিন্ন এলাকায় পানি নিষ্কাশনে মাঠে নামেন দুই সিটি করপোরেশনের কর্মীরা।
গত শনিবার রাত ১২টা থেকে গতকাল রবিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ঢাকায় ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভোর ৪টার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়ে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্রতা বাড়ে। রাজধানীর তেজগাঁও, মগবাজার, গ্রিন রোড, পান্থপথ, আগারগাঁও, নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, আরামবাগ, শাপলা চত্বর ও নটর ডেম কলেজের আশপাশসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকতে দেখা গেছে।
ফকিরাপুল এলাকার ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান বলেন, রাস্তায় পানি আর ফুটপাতে দোকানিরা মালামাল রেখে পথ দখল করে রেখেছেন। কাঠের চৌকি দিয়ে ফুটপাতের অর্ধেক এবং বাকি অংশ মালামাল দিয়ে দখল করে রাখায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে জানান তিনি।
জলাবদ্ধতার কারণে পুরানা পল্টন, গুলিস্তান ও মতিঝিলের মতো ব্যস্ত এলাকাতেও দুপুর পর্যন্ত পানি জমে ছিল। কোথাও হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে পথচারীদের চলাচল করতে হয়েছে। রিকশাসহ ছোট যানবাহন চলাচলেও সমস্যা হওয়ায় বিভিন্ন সড়কে যানজট তৈরি হয়।
ব্যাংকার হামিদুর রহমান বলেন, ভোরে বৃষ্টির কারণে ঘুম ভেঙে যায়। সকাল ১০টার পরও মতিঝিলের পানি পুরোপুরি নামেনি। রিকশায় এসে ব্যাংকের গেটে পৌঁছানোর পরও জুতা ভিজে গেছে বলে জানান তিনি।
জলাবদ্ধতার মধ্যেই পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস : আগামী পাঁচ দিনের জন্য বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানান, উত্তর আন্দামান সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় এবং রংপুর বিভাগের দুই-এক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। ওই দিন খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পানি সরাতে মাঠে নামলেন প্রশাসক : জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে ভোর থেকেই মাঠে নামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম। ড্রেনের মুখ পরিষ্কার, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং পাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের কাজ চালানো হয়। ঝিগাতলায় সড়কের একটি ম্যানহোলের ঢাকনা খুলে আবর্জনা পরিষ্কারের কথাও জানিয়েছে ডিএসসিসি।
গতকাল দুপুরে দোয়েল চত্বর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, পলাশী মোড় ও নিউমার্কেটসহ জলাবদ্ধ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। এ সময় তিনি পানি নিষ্কাশন ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারক করেন।
পরিদর্শনকালে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে কিছুটা শিথিলতা দেখতে পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রশাসক। তিনি বলেন, ফজরের সময় থেকেই কর্মীদের কাজে নামার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা শতভাগ বাস্তবায়িত হয়নি। বৃষ্টি কমার পর কাজে নামার ক্ষেত্রে কিছুটা গাফিলতি দেখা গেছে। নির্দেশনায় অবহেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলেও জানান তিনি।
জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবে রাস্তায় যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার বিষয়টি উল্লেখ করে আবদুস সালাম বলেন পলিথিন, চায়ের কাপ ও প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেনের মুখ বন্ধ করে দেয়। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়।
পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ফুটপাত দখলমুক্তকরণ অভিযানও চালানো হচ্ছে। প্রশাসক বলেন, সড়কের ওপর কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে পথচারী চলাচলে ব্যাঘাত না ঘটলে কিছু বড় ফুটপাতে সুনির্দিষ্ট নিয়মে হকারদের বিষয়ে বিবেচনা করা যেতে পারে। এ বিষয়ে হকার নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রশাসকের পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন।