ডিসেম্বরের মধ্যেই বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৩ এএম

সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সংবিধানে ১৮তম সংশোধনী বিল আনা হবে। আমরা খুব দ্রুতগতিতে এগোতে চাই। গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংশ্লিষ্ট কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান তিনি। তবে, বৈঠকে সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো প্রতিনিধি অংশ নেননি।

বৈঠকে কমিটির সদস্য এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে একটি করে বৈঠকের আয়োজন করা হবে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ আমরা আলাপ-আলোচনা শেষ করে রিপোর্ট প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত করতে পারব বলে আশা করছি। এরপর সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিল আকারে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে আসবে।’

বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গিত প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে’ স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। দলগুলোর মধ্যে ১৫টি দলের প্রতিনিধি সরাসরি অংশ নিয়েছেন। এ ছাড়া এবি পার্টি তাদের লিখিত বক্তব্য দিয়েছে। জাতীয় গণফ্রন্টের নেতারা পারিবারিক অসুস্থতার কারণে শেষ মুহূর্তে অংশ নিতে না পারলেও টেলিফোনে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি এখনো এই কমিটির বৈঠকে অংশ নেয়নি বলে জানান সালাউদ্দিন আহমদ।

সংবিধানের কাঠামোগত পরিবর্তন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন, বিচার, জনপ্রশাসন ও পুলিশি ব্যবস্থার সংস্কারে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। এর মধ্যে বাজেট বা অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়টিও রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে এবং অপচয় রোধে সরকার জুলাই- জুনের পরিবর্তে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অর্থবছর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি বাস্তবায়নে সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হবে।’

তিনি বলেন, ১০০ সদস্য নিয়ে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে অনেক দল একমত। এটি সরাসরি জনপ্রতিনিধি দিয়ে নির্বাচিত হবে না, বরং সংসদে প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনদের নিয়ে গঠিত হবে। তবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা এই উচ্চকক্ষের থাকবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জুলাই সনদে কিছু দলের ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘যে বিষয়গুলোতে নোট অব ডিসেন্ট ছিল, সেগুলো আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছি। জনগণের ম্যান্ডেট ও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করব।’

বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সংস্কার চায় না, এমন অপপ্রচার চলছে উল্লেখ করে কমিটির সভাপতি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ অসত্য। জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, আমরা অক্ষরে অক্ষরে সেভাবেই বাস্তবায়ন করব।’

সংবিধানের যে সংশোধনী হতে যাচ্ছে, তা ভবিষ্যতে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে না হলে আদালতে চ্যালেঞ্জ হবে বা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা যাবে না, এসব ধারণা ঠিক নয়। সংবিধান কোনো সর্বকালের জন্য অপরিবর্তনশীল গ্রন্থ নয়। সমাজের চাহিদা অনুসারে তা পরিবর্তিত হয়।’ তিনি বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল যদি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করে এবং সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তবে তারা জনচাহিদা অনুযায়ী সংবিধানের যেকোনো বিধান পরিবর্তন করতে পারবে।’ এ সময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিরোধী দলগুলো সংসদে না থাকলেও সংবিধান সংশোধনী বিল যখন আসবে, তখন তারা অংশ নেবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত