রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের মধ্যেই রাজধানী মস্কো ও আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন গতকাল রবিবার জানান, শনিবার রাতভর রুশ ভূখ-ে ১ হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫০টি মস্কোর দিকে যাচ্ছিল। তিনি জানান, হামলায় মস্কো অয়েল শোধনাগারের একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেখানে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সোবিয়ানিন অভিযোগ করেন, কঠোর নিয়ন্ত্রণে চলা তিন দিনের পার্লামেন্ট নির্বাচন ব্যাহত করতেই ইউক্রেন এই নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে। তবে তার দাবি, কিয়েভের সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিওভ জানান, কিয়েভের হামলায় রাজধানীতে ২ জন নিহত হয়েছেন। একটি ২১ তলা ভবনে ড্রোনের আঘাতে আগুনের ঘটনায় প্রায় ৪০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের হামলায় এই শোধনাগারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনিও একে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন। গভর্নর জানান, মস্কো অঞ্চলকে লক্ষ্যবস্তু করে ইউক্রেনের ছোড়া ২৪৯টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কোর সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর শেরেমেতিয়েভো যাত্রীদের ‘সাময়িক বিধিনিষেধ’ চালু থাকার বিষয়ে সতর্ক করেছিল। আর রাজধানীর ভনুকোভো বিমানবন্দরে সব ধরনের উড়োজাহাজের অবতরণ ও উড্ডয়ন বন্ধ রাখা হয়েছিল।
ভোরোবিওভ গতকাল রবিবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সোফিনোতে একটি তিনতলা আবাসিক ভবনে ড্রোন আঘাত হানার পর ৪৪ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়। আহত হন পাঁচজন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। আঞ্চলিক গভর্নর জানান, ওরেখোভো-জুয়েভো জেলায় একটি বাড়িতে ড্রোন আঘাত হানার পর এক বয়স্ক ব্যক্তি নিহত হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, মস্কো অঞ্চলে রাতের আকাশে বিস্ফোরণ ঘটছে; একটি গুদামে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদমির জেলেনস্কি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘মস্কো অঞ্চলে আমাদের দূরপাল্লার হামলা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।’ সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, রাশিয়ার একটি প্রধান তেল শিল্প স্থাপনা এবং যুদ্ধ আগ্রাসনে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ রসদ সরবরাহ কেন্দ্রে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। এগুলো শত কোটি ডলারের সম্পদ যা যুদ্ধযন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করছিল। রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশই সম্প্রতি তাদের হামলা জোরদার করেছে। এসব হামলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহন স্থাপনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস কেন্দ্রগুলোকে নিশানা করা হচ্ছে।
এদিকে, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ অঞ্চলে শনিবার রাতভর রুশ ড্রোন হামলায় তিন শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার আঞ্চলিক কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে এক মা ও তার তিন বছর বয়সী দুই সন্তান রয়েছে। দেশটির জরুরি সেবা বিভাগের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, একটি আবাসিক ভবনে রুশ ড্রোন আঘাত হানলে মা ও তার দুই শিশুসন্তান নিহত হয়। পৃথক আরেকটি ড্রোন হামলায় আহত এক কিশোরী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বলে জানিয়েছেন কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর তিমুর তকাচেঙ্কো। তিনি জানান, একদিনের বেশি সময় ধরে কিয়েভ অঞ্চলে রুশ হামলা অব্যাহত ছিল। পাঁচটি জেলার ৩১টি স্থাপনা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ফাস্তিভ জেলা। সেখানে ২৪টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বসতবাড়ি, শিল্প ও ইউটিলিটি স্থাপনা, একটি কৃষি প্রতিষ্ঠানের জায়গা এবং বিভিন্ন যানবাহন।