যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ছাড়াল ৪৫ বিলিয়ন ডলার

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২১ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ইরানের সঙ্গে প্রায় সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। রেকর্ড জ্বালানি দামের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। সম্প্রতি দেশটির প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর- পেন্টাগন উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচের একটি পরিসংখ্যান জানিয়েছে। পেন্টাগন বলছে, ইতিমধ্যে এ যুদ্ধে ওয়াশিংটনের ব্যয় ৪৫ বিলিয়ন ডলার (৪ হাজার ৫১০ কোটি) ছাড়িয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানাশোনা রয়েছে, এমন দুটি সূত্র সিএনএনকে এ তথ্য জানায়। সূত্র দুটি জানায়, পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের ব্যয় ছিল ৪ হাজার ৩৬০ কোটি ডলার। এছাড়া অতিরিক্ত জ্বালানি বাবদ আরও ১৫০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। তবে এ হিসাব চলমান ইরান যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ খরচের খতিয়ান নয়। কেননা, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি ও ভবন মেরামতের খরচ এতে ধরা হয়নি।

সিএনএনকে একটি সূত্র জানায়, ইরানে টানা সামরিক অভিযানের পরোক্ষ খরচের বিস্তারিত হিসাব কংগ্রেসকে জানায়নি পেন্টাগন। অথচ আইনপ্রণেতারা এর পূর্ণাঙ্গ হিসাব চেয়েছিলেন। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নির্দলীয় বাজেট গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও) জানিয়েছিল, ইরান যুদ্ধে ১ আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮ বিলিয়ন (৩ হাজার ৮০০ কোটি) ডলার খরচ হয়েছে। এ খরচ প্রতি মাসে আরও ৩ বিলিয়ন ডলার করে বাড়তে পারে বলেও আভাস দেওয়া হয়েছিল। যদিও সিবিওর হিসাবেও যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামতের খরচ ধরা হয়নি। সংস্থাটি জানায়, মোট খরচের বড় অংশ গেছে যুদ্ধাস্ত্র ও সেসব ব্যবহারের পেছনে। আইনপ্রণেতাদের সিবিও জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধ চলতে থাকলে ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।

যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এমন এক সময় এ বাড়তি খরচের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ অর্থনীতি নিয়ে ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও এর ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। দেশটির সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই যুদ্ধ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির অনেক নেতাও যুদ্ধের বিষয়ে প্রকাশ্য সমালোচনা করেছেন। এই যুদ্ধ এখন কার্যত পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের পাল্টা হামলায় অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কিছু কিছু ঘাঁটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান এ ব্যয় ওয়াশিংটনের অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদে টান ফেলেছে এবং জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে অন্য কোনো সম্ভাব্য সংঘাতের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে যেমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তেমনি চাপ বাড়ছে দেশটির এমনিতেই টানাপড়েনে থাকা ফেডারেল বাজেটের ওপর। গত আগস্টে রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের দূরপাল্লার নিখুঁত নিশানার (প্রিসিশন) ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরোটা ব্যবহার করে ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুদ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে প্রায় পাঁচ বছর লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিহতদের সংখ্যা গোপন করেছে পেন্টাগন : চলমান ইরান যুদ্ধে পেন্টাগনের প্রকাশ্যে স্বীকার করা তথ্যের তুলনায় অনেক বেশি সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ছয় কর্মকর্তার দেওয়া পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তথ্যের বরাতে এই খবর জানানো হয়েছে। ওই কর্মকর্তাদের মধ্যে পাঁচজন জানান, যুদ্ধে অন্তত ২২ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন, যা পেন্টাগনের প্রাতিষ্ঠানিক ডাটাবেজে প্রদর্শিত সংখ্যার চেয়ে চারটি বেশি। অন্য এক কর্মকর্তা জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েল যৌথভাবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ২৩ জন সেনা এবং অঞ্চলটিতে কর্মরত তিনজন ঠিকাদার প্রাণ হারিয়েছেন। এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৮ শতাধিক সেনা আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই মস্তিষ্কে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃতের সংখ্যা আড়াল করার ফলে নিহত সেনাদের স্বজনরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তবে পেন্টাগন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত