দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ পরিবার এখনো স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারে না। অর্থনৈতিক সক্ষমতার অভাবসহ নানা কারণে এসব পরিবারের সদস্যদরা স্মার্টফোন ব্যবহারের বাইরে রয়েছেন। তবে মোবাইল ফোনের ব্যবহার প্রায় সর্বজনীন পর্যায়ে পৌঁছেতে। দেশের ৯৯ শতাংশ পরিবারে অন্তত একটি মোবাইল ফোন রয়েছে।
গতকাল রবিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহার জরিপ ২০২৫-২৬’-এর চতুর্থ প্রান্তিকের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছরের ব্যবধানে স্মার্টফোন ব্যবহারকারী পরিবারের হার সামান্য বেড়েছে। বর্তমানে দেশের ৭৫ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারের কাছে স্মার্টফোন রয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ৭৪ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে স্মার্টফোন ব্যবহার করলেও সবাই আবার ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পান না। ব্যবহারকারীদের ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ পরিবারের কাছে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে।
বিবিএসের বাস্তবায়নাধীন ‘ব্যক্তি ও খানা পর্যায়ে জেলাভিত্তিক আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ’ প্রকল্পের আওতায় জরিপটি পরিচালনা করা হচ্ছে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে প্রথমবার মডিউলার সার্ভের অংশ হিসেবে আইসিটি জরিপ পরিচালনা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২২ ও ২০২৩ সালে পৃথক জরিপের মাধ্যমে আইসিটি সূচক প্রকাশ করা হয় এবং আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নকে (আইটিইউ) ১৯টি সূচকের তথ্য সরবরাহ করা হয়।
বর্তমানে চলমান জরিপে কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পারসোনাল ইন্টারভিউয়িং (সিএপিআই) পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বছরে চারটি প্রান্তিকে তথ্য সংগ্রহ শেষে তিনটি মূল প্রতিবেদন প্রকাশ এবং আইটিইউকে ২২টি সূচকের তথ্য সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
জরিপে পাঁচ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী নারী-পুরুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ২ হাজার ৫৬৮টি নির্বাচিত নমুনা এলাকায় প্রতি প্রান্তিকে ২৪টি করে মোট ৬১ হাজার ৬৩২টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বছরে মোট ২ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৮টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। এ কাজে ৬৪ জেলায় ২১৪ জন প্রশিক্ষিত তথ্য সংগ্রহকারী মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।
জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৯৯ শতাংশ পরিবারের অন্তত একটি মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবারের বিদ্যুৎ সুবিধা রয়েছে। ৬০ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারের টেলিভিশন, ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবারের রেডিও এবং ৯ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারের কম্পিউটার রয়েছে।
জরিপে ব্যক্তি পর্যায়েও মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পাঁচ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী মানুষের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার এক বছরে বেড়ে ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এ হার ছিল ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৫৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ।
একই সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর হার ৮৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮৯ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এ হার ছিল ৮০ দশমিক ৬ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছে।
নিজস্ব মোবাইল ফোনের মালিকানার হারও বেড়েছে। এক বছর আগে ৬৪ দশমিক ২ শতাংশ মানুষের নিজস্ব মোবাইল ফোন ছিল। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এ হার ছিল ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশ। এবার তা বেড়ে ৬৫ দশমিক ৬ শতাংশ হয়েছে।
তবে কম্পিউটার ব্যবহারের হার এখনো তুলনামূলক কম। পাঁচ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী মানুষের ১১ দশমিক ৮ শতাংশ কম্পিউটার ব্যবহার করেন। গত বছর এ হার ছিল ১১ দশমিক ৬ শতাংশ।
বিবিএস জানিয়েছে, জরিপের তথ্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, জেলা পর্যায়ে আইসিটি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নকে (আইটিইউ) ২২টি সূচকের তথ্য সরবরাহে ব্যবহার করা হবে।