সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৮ এএম

সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দাম গত রাত ১২টা থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৫ টাকা। এ ছাড়া কেরোসিনের দাম ১৫৫ টাকা, পেট্রোলের দাম ১৬০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার নির্ধারণ করা হয়েছে ।

সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে জ্বালানি বিভাগ তেলের দাম না বাড়িয়ে আগস্ট মাসের নির্ধারিত দামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। তবে মাসের শেষ দিকে এসে এই দাম বাড়ানো হলো। এর আগে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকায় বিক্রি হতো। অর্থাৎ, সরাসরি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হলো।

গ্যাস বিতরণের দাবিতে প্রধান বিরোধী জোটের চলমান লংমার্চ কর্মসূচির মধ্যে জ্বালানির দাম বাড়ানো হলো।

এর আগে গত ১৮ এপ্রিল সব ধরনের জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে সরকার। ওই সময় ডিজেল ও কেরোসিনে ২০ টাকা করে এবং পেট্রোল ও অকটেনে ১৫ টাকা করে দাম বাড়ানো হয়। সেই বিবেচনায় এবারের দাম বৃদ্ধি সর্বোচ্চ বলে মনে করা হচ্ছে।

যদিও গত এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সময় সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। গত মার্চে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে উঠেছিল। তবে এখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।

তবে তেল আনার প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তেলের আমদানি খরচ বেড়েছে। এ কারণে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারদর এপ্রিলের তুলনায় কম থাকলেও ফ্রেইট চার্জ বা জাহাজভাড়া কয়েক গুণ বেড়েছে।

জ্বালানি বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য ও ফ্রেইট চার্জ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এখনো অব্যাহত আছে। ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি তেল বিক্রি করায় মার্চ থেকে আগস্টএই ছয় মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান করেছে।

জ্বালানি বিভাগ বলছে, এখন ডিজেলের মূল্য ভারতে (কলকাতা) ১৩৪.৭৬ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪.৮৩ টাকা, নেপালে ১৬১.২৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯.৪২ টাকা, থাইল্যান্ডে ১৫১.২২ টাকা, ভিয়েতনামে ১৩৭ টাকা, মালদ্বীপে ১৪০.৭১ টাকা, ফিলিপাইনে ১৬৮.৫৩ টাকা, পাকিস্তানে ১৮৫.৪৮ টাকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৪৪.৭৯ টাকা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেই বলা হয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য সর্বনিম্ন হওয়ায় পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় ক্রয়কৃত জ্বালানি তেল পাচার হওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উল্লেখ্য, যুদ্ধের কারণে এলএনজি খাতেও প্রচুর ভর্তুকি দিয়ে সরকার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ সচল রাখছে। এ ছাড়া সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চলমান রাখতে এবং জ্বালানি তেল পাচার রোধে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য অনুযায়ী ডিজেলে বিপিসির লিটারপ্রতি লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। সে হিসাবে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হবে। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধি করা হলে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে।

তবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি এবং পণ্যের দাম বাড়ায় জনভোগান্তির বিষয়টি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত