৪০ হাজার টাকায় সন্তান বিক্রি, বাবাসহ গ্রেপ্তার ৪

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৫ এএম

গাইবান্ধায় নেশার টাকার জন্য ৪০ হাজার টাকায় নিজের কন্যাসন্তানকে বিক্রির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। পরে অভিযান চালিয়ে ১৩ মাস বয়সী শিশু ফাতেমাকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য  নিশ্চিত করেন। এর আগে গত রবিবার গাইবান্ধা ও রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশ। পরে সারবাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত বাবা হামিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ছোট ওমরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাসের হেলপার মজিদকে আটক করা হয়। এরপর ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া এলাকা থেকে মোছা. মোরশেদাকে আটক করা হয়। পরে আটক আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া ছলের মোড় এলাকায় সোলেমান চৌকিদারের বাড়ি থেকে শিশু ফাতেমাকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ১৭ জুলাই বিস্কিট কিনে দেওয়ার কথা বলে ১৩ মাস বয়সী ফাতেমাকে কোলে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন বাবা হামিদুল মিয়া। এরপর বাবা ও সন্তান আর বাড়িতে ফেরেননি। গাইবান্ধা পৌর শহরের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় মেয়ের ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটছিল মা রুমানা আক্তারের।

শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার দুদিন পর হামিদুল মোবাইল ফোনে স্ত্রীকে জানান, ১০ হাজার টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়া হবে। তবে আর্থিক সংকটের কারণে তিনি কোনো টাকা দিতে পারেননি। এরপর থেকে শিশুটিকে ফিরে পাননি। তিনি আরও জানান, হামিদুল পরে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেওয়ায় তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে তিনি আদালতে মামলা করেন এবং পুলিশের দ্বারস্থ হন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামিদুলের সঙ্গে রুমানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মাদকের টাকা জোগাড় করা নিয়ে স্ত্রীকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। সন্তান জন্মের পর পরিস্থিতির অবনতি হলে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান রুমানা বেগম। পরিবারের অভিযোগ, মাদকের টাকা জোগাড় করতেই শিশুটিকে নিয়ে যান হামিদুল। তিনি শিশুটিকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেন। তবে হামিদুল ওই টাকার পুরোটা পাননি। তিনি পেয়েছেন ৩১ হাজার টাকা।

সন্তানকে ফিরে পেয়ে মা রুমানা বেগম বলেন, ‘আজ আমার কোল ভরে গেল। যারা আমার স্বামীর কাছে থেকে আমার সন্তানকে কিনে নিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই।’

গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, ‘পুলিশের কাছে অভিযোগ আসার পর জেলা ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম কাজ শুরু করে। আসামিরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করার কারণে কিছু বেগ পেতে হলেও আমাদের টিম তাদের গ্রেপ্তার করে শিশুটিকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আসামিদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে হাজির করা হবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত