ইট-পাথরের কোলাহল আর ব্যস্ততার সীমানা ছাড়িয়ে দূরবর্তী এক নিভৃত পল্লী প্রাঙ্গণ তখন মুখরিত দেশীয় লোকসুরে। দোতারা, একতারা, তবলা, সারিন্দা আর বাঁশির ছন্দে মিশে যাচ্ছিল গ্রামীণ একঝাঁক শিশুর উদাত্ত কণ্ঠ। কখনো ভাওয়াইয়ার চিরন্তন সুর, কখনো লালন, বাউল, মুর্শিদী কিংবা মারফতির গভীর ভাবাবেগ। শিশুদের সেই সংগীত সাধনা আর মাটির টানে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার এক প্রান্তেছুটে এলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন।
গতকাল সোমবার বিকেলে আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের আরাজি দেওডোবা গ্রামে অবস্থিত সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন ‘মায়ের তরী’র প্রধান প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন। প্রত্যন্ত পল্লীতে রাষ্ট্রদূতের আগমনে স্থানটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। গ্রামে পৌঁছালে তাকে স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আবহে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরিদর্শনের শুরুতেই তিনি সাধারণ উঠানে বসে শিশুদের পরিবেশিত লোকসংগীত, দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের প্রশিক্ষণ ও তাদের বিশেষ শৈল্পিক দক্ষতা পর্যবেক্ষণ করে গভীর আনন্দ ও মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।