‘নদী বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে চান্দহর নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ সচল রাখতে স্বেচ্ছাশ্রমে কচুরিপানা অপসারণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় চান্দহর বাজার হাট এলাকায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। চান্দহর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও চান্দহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আমজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুন্নাহার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন কবির ও সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চান্দহর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. আজিজুল হক টিক্কা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত বলেন, ‘২০০৬ সালে আমি সংসদ সদস্য হওয়ার পর চান্দহর নদীকে অভয়ারণ্য ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এ নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য ডিও লেটারও দিয়েছিলাম।’
নদী থেকে কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়ায় মো. আমজাদ হোসেনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, নদী ও এর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। চান্দহর নদীতে কারেন্ট জাল ব্যবহার না করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন।
ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত বলেন, জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা এবং মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে।
তেলের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ানো হয়নি; অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। আমাদের দেশে তেলের দাম প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশে প্রতি লিটার তেলের দাম ১৩৪ টাকা ৫৪ পয়সা। অন্য দেশে তেল পাচার ঠেকাতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ এ সিদ্ধান্তকে একটি চক্র ভিন্নভাবে প্রচার করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে স্বাগত বক্তব্যে মো. আমজাদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চান্দহর নদীতে কচুরিপানা জমে থাকায় নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। সংসদ সদস্যের অনুপ্রেরণায় স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে নদী থেকে কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি চান্দহর নদী ও আশপাশের খাল খননসহ এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দাবি তুলে ধরে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রধান অতিথির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
অনুষ্ঠানে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন আজিবর হোসেন, আরশাদ মুন্সি ও মাওলানা মাহমুদুল হাসান। তাঁরা চান্দহর নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, নিয়মিত কচুরিপানা অপসারণ, অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ এবং নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।