জাতীয় দলের হয়ে সাকিব আল হাসান সর্বশেষ খেলেছেন ২০২৪ সালের অক্টোবরে, ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে। এরপর রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ ও তার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় দেশে যেমন আসছেন না, তেমনি প্রায় দুই বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও খেলতে পারছেন না তিনি। এই সময়ে একাধিক ক্রিকেটারকে দিয়ে এই অলরাউন্ডারের জায়গা পূরণের চেষ্টা করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই অবদান রাখার পাশাপাশি দলের একাদশের ভারসাম্য তৈরিতে সাকিবের যে ভূমিকা ছিল, সেটি পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
সাকিবের মতো একজন দক্ষ অলরাউন্ডারের প্রয়োজন বেশ ভালোভাবেই উপলব্ধি করতে পারছে বাংলাদেশ দল। সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই পাইপলাইনে নতুন ক্রিকেটার খুঁজছেন স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। গতকাল মিরপুরে এই পাকিস্তানি কোচ বলেন, ‘এটা নিয়ে ভাবছি। এমন বাঁহাতি স্পিনার খুঁজছি, যে ব্যাটও করতে পারবে। হুট করে একটা বৃক্ষ তো গড়ে তুলতে পারবেন না। আমাদের এখন রানা আছে, যে দেড়শ স্পিডে বল করতে পারে। এখন একজন বাঁহাতি স্পিনার দরকার, যে ব্যাটও করতে পারে। আশা করি দ্রুত খুঁজে পাব।’
সাকিবের উত্তরসূরি হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজের নাম অনেকবারই এসেছে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ব্যাট-বল দুই বিভাগেই তার সামর্থ্য ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ব্যাট হাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন তিনি। তবে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। সময়ের সঙ্গে অফ স্পিনই নিজের প্রধান অস্ত্র বানিয়েছেন তিনি। ফলে তাকে নিয়ে প্রত্যাশা থাকলেও ‘পরবর্তী সাকিব’ হওয়া আর হয়ে ওঠেনি মিরাজের। মুশতাকও মিরাজকে সাকিবের সঙ্গে তুলনা না করে তার নিজের ভূমিকার ওপর জোর দিচ্ছেন, ‘তাকে ভালো বল করতে হবে, ভালো ওভার করতে হবে, তবেই উইকেট আসবে। এরপর আসে বিশ্বাসের বিষয়। স্পিন বিভাগকে বুঝতে হবে কখন অ্যাটাক করবে, কখন করবে না। ব্যাটারের স্ট্রেন্থ বুঝে বল করতে হবে। ভালো বল নয়, ভালো ওভার করতে হবে।’
মিরাজের সঙ্গে বাংলাদেশের স্পিন বিভাগে এখন অভিজ্ঞ তাইজুল ইসলাম আছেন। সাদা বলের ক্রিকেটে রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ ও তানভীর ইসলামের মতো স্পিনাররা নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন। মুশতাকের চোখে বর্তমান স্পিন বিভাগ তাই ভালো অবস্থায়ই আছে, ‘তাইজুল, মিরাজরা আছে। সাদা বলে রিশাদ, নাসুম, তানভীররা। সবাই ভালো করছে, এ কারণেই আমরা এখন অনেক সিরিজ জিততে পারছি।’
তবে জাতীয় দলের বাইরে আরও স্পিনার তৈরি করার কাজটিও চালিয়ে যেতে চান মুশতাক। এশিয়ান গেমসে দলের সঙ্গে জাপানে না গিয়ে ঢাকায় পাইপলাইনের স্পিনারদের নিয়ে তিন দিনের ক্যাম্প করেছেন। প্রথম দিন বাঁহাতি স্পিনারদের সঙ্গে, দ্বিতীয় দিন লেগ স্পিনারদের সঙ্গে এবং গতকাল শেষ দিনে অফ স্পিনারদের পাশাপাশি কয়েকজন লেগ স্পিনার ও বাঁহাতি স্পিনারকেও নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। এই ক্যাম্পে স্পিনারদের অ্যাকশন ও টেকনিক্যাল বিষয়েও নজর দিয়েছেন মুশতাক। তিনটি ক্যামেরায় সামনে, পেছন ও পাশ থেকে বোলারদের অ্যাকশন দেখেছেন এই পাকিস্তানি। পাইপলাইনের স্পিনারদের কাছ থেকে দেখে সম্ভাবনার কথা শোনালেন মুশতাক, ‘এসব স্পিনারের স্ট্রাকচার খুবই ভালো, পাইপলাইনে অনেক খেলোয়াড় আছে। আমরা খুবই খুশি এটা নিয়ে। এসব ক্যাম্প নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন। প্রতি ৩ মাসে এমন ক্যাম্প দরকার।’
এদিকে চলমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৫-২৭ চক্রে ছয় টেস্ট শেষে বাংলাদেশ ৫৫.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে। তিন জয়, দুই হার ও এক ড্রয়ে ৪০ পয়েন্ট নাজমুল হোসেন শান্তর দলের। সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আরও ছয়টি টেস্ট রয়েছে। চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলবে পয়েন্ট শতাংশে শীর্ষ দুই দল। ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনাটা তাই বাংলাদেশের সামনে আছে। মুশতাকও সেই সম্ভাবনাটা দেখছেন, ‘অবশ্যই সম্ভব। কেন নয়। ভালো খেলতে হবে, ভালো অবস্থানে আছি আমরা। বিশ্বাস রেখে খেলতে হবে।’