মালয়েশিয়াকে চ্যালেঞ্জ দিতে চায় বাংলাদেশ

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪১ এএম

অপেক্ষার অবসান। আসিয়ান কাপে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এই টুর্নামেন্টে অভিষেক হচ্ছে হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়াদের। ডিভিশন-১ এর প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় মাঠে নামবে লাল-সবুজের দল। নতুন টুর্নামেন্টে নতুন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের লক্ষ্য বাংলাদেশের।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য সহজ হবে না। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে মালয়েশিয়ার অবস্থান ১৩৬, বাংলাদেশের ১৮১; অর্থাৎ দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ৪৫ ধাপ। চার বছর আগে সর্বশেষ দেখায়ও মালয়েশিয়ার কাছে ৪-১ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে অতীত কিংবা র‌্যাংকিংয়ের ব্যবধান নিয়ে না ভেবে মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য কোচ টমাস ডুলির। ম্যাচের আগে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে জার্মান-আমেরিকান এই কোচ বলেন, ‘আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমি জানি বাংলাদেশে আমাদের অনেক সমর্থক আছেন, যারা ভাবেন আমরা এখানে এসে সবাইকে হারিয়ে দেব। কিন্তু ফুটবল এভাবে কাজ করে না। র‌্যাংকিংয়ে মালয়েশিয়া আমাদের চেয়ে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ পয়েন্ট এগিয়ে। এটি অনেক বড় পার্থক্য।’

তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শুধু ফলের দিকে তাকাচ্ছেন না বাংলাদেশ কোচ। নভেম্বরে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই টুর্নামেন্টকে দেখছেন তিনি। ডুলি বলেন, ‘আমরা খুব খুশি যে এই টুর্নামেন্টের অংশ হতে পেরেছি। শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের পরীক্ষা করতে চেয়েছি সবসময়। সামনে আমাদের বড় লক্ষ্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, যা নভেম্বরে নিজেদের মাঠে খেলব। তাই এই টুর্নামেন্ট আমাদের প্রস্তুতির জন্য খুব ভালো সুযোগ।’ নিজেদের বর্তমান অবস্থান বোঝার ক্ষেত্রেও আসিয়ান কাপকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন ডুলি। তার মতে, নিয়মিত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবে। ‘আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আমরা এখন কোন পর্যায়ে আছি তা জানা। আমরা এই ধরনের গ্রুপের অংশ হতে চাই এবং তাদের সঙ্গে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই’ বলেন ডুলি।

বাংলাদেশ দলে এবার বাড়তি আলোচনায় হামজা চৌধুরী। ইংলিশ ফুটবল লিগে খেলা এই মিডফিল্ডারের সঙ্গে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার সমন্বয়ের দিকে থাকবে নজর। মাঝমাঠে বল ধরে রাখা, প্রতিপক্ষের চাপ সামলানো এবং আক্রমণে ওঠার ক্ষেত্রে এই জুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিদেশে খেলা আরও কয়েকজন ফুটবলার থাকলেও আক্রমণভাগে স্বীকৃত ‘নম্বর নাইন’ না থাকায় গোলের প্রশ্নটিও থাকবে। তবে নিজেদের ওপর আস্থা রাখছেন জামাল। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি এটা কঠিন হতে যাচ্ছে। তবে আমরা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখি এবং দলের ওপর আস্থা আছে।’ তিন ম্যাচের এই টুর্নামেন্টকে সাফের প্রস্তুতি হিসেবে দেখলেও প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক। ‘আমরা ভালো ম্যাচ খেলতে চাই। কয়েকটি পয়েন্ট, এমনকি একটি-দুটি জয় পেলে এই টুর্নামেন্ট আমাদের জন্য খুব সফল হবে’ বলেন জামাল।

মালয়েশিয়ার পর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ১ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের দল। তাই র‌্যাংকিংয়ের ব্যবধানের চেয়ে মাঠের পারফরম্যান্সই হবে বাংলাদেশের আসল পরীক্ষা। রক্ষণে ভুল কমিয়ে, মাঝমাঠে লড়াই করে এবং পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে শক্তিশালী মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি জমিয়ে তোলার সুযোগ থাকবে ডুলির দলের।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত