সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘাড়ে ব্যথা, শক্ত ভাব বা নড়াচড়ায় অস্বস্তি এ ধরনের সমস্যা অনেকেরই হয়। আমরা এর জন্য বালিশকে দায়ী করি না। অথচ ঘুমানোর সময় মাথার নিচে দুই-তিনটি বা তারও বেশি বালিশ ব্যবহার করলে ঘাড় দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাভাবিক অবস্থানে থাকতে পারে। ফলে ঘুম থেকে ঘাড়ে ব্যথা বা শক্ত ভাব দেখা দিতে পারে।
অতিরিক্ত উঁচু বালিশে সমস্যা
অতিরিক্ত উঁচু বালিশ মাথাকে সামনের দিকে ঠেলে দিয়ে ঘাড়ের স্বাভাবিক বাঁক পরিবর্তন করতে পারে। ঘাড়কে স্থিতিশীল রাখার পেশিগুলো বিশ্রামের পরিবর্তে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে বাধ্য হতে পারে। ফলে পেশিতে ব্যথা বা শক্ত ভাব দেখা দিতে পারে। ঘাড় স্বাভাবিক অবস্থান থেকে সরে গেলে সার্ভিক্যাল জয়েন্ট ও ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্কে চাপের বণ্টন পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে কাত হয়ে ঘুমানোর সময় ঘাড় কাত বা ঘুরে গেলে একপাশের পেশি ও জয়েন্টে তুলনামূলক বেশি চাপ পড়তে পারে।
দীর্ঘ সময় অস্বাভাবিক অবস্থানে থাকার ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর ঘাড় শক্ত লাগা, ব্যথা বা ঘাড় ঘোরাতে অস্বস্তি হতে পারে।
ঘাড়ের জন্য করণীয়
বালিশের উচ্চতা পরীক্ষা করুন। কাত হয়ে শোয়ার সময় পেছন থেকে দেখলে মাথা যেন শরীরের তুলনায় অতিরিক্ত ওপরে উঠে না থাকে বা বিছানার দিকে নেমেও না যায়। বালিশের উচ্চতা এমন হওয়া উচিত, যাতে মাথা ও ঘাড় মোটামুটি নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকে। সবার জন্য একই উচ্চতার বালিশ উপযুক্ত নয়। শরীরের গঠন, কাঁধের প্রস্থ, ঘুমানোর ভঙ্গি এবং গদির দৃঢ়তা অনুযায়ী বালিশের উচ্চতা নির্বাচন করা উচিত। ব্যথা কমাতে অতিরিক্ত স্ট্রেচিং করবেন না। ধীরে ধীরে, ব্যথামুক্ত সীমার মধ্যে ঘাড় নাড়াচাড়া করুন এবং বালিশ বা ঘুমানোর অবস্থান পরিবর্তনের পর উপসর্গ কমছে কি না লক্ষ করুন। ঘুমানোর আগে আপনার বালিশ, ঘুমানোর ভঙ্গি, গদি এবং মাথা-ঘাড়ের অবস্থান খেয়াল করুন। কাত হয়ে ঘুমালে বালিশের উচ্চতা এমন হবে, যাতে কাঁধ ও মাথার মধ্যকার ফাঁকা স্থান পূরণ হয়, ঘাড়কে অতিরিক্ত ওপরে ঠেলে না দেয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ
তীব্র ঘাড়ের ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে বালিশ পরিবর্তনই সমাধান নয়। বিশেষ করে ঘাড়ের ব্যথার সঙ্গে হাত বা আঙুলে ঝিনঝিনি, অবশভাব, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, ব্যথা হাতের দিকে ছড়িয়ে পড়া বা অন্যান্য স্নায়বিক উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।