কথা বলার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম

কথা বলার প্রথম শর্ত হলো সত্য বলা। মিথ্যা বলা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কোনো কথা বলার সময় তা সত্য কিনা, সেই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। শুধু মানুষকে খুশি করার জন্য বা নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য মিথ্যা বলা উচিত নয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো।’ (সুরা আহজাব ৭০)

কথার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। সত্য কথা হলেও তা বলার সময় ভাষা সুন্দর হওয়া দরকার। রূঢ়তা, কটু কথা ও অপমানজনক শব্দ মানুষের মনে গভীর কষ্ট তৈরি করে। তাই কথা বলার সময় কোমল ও মার্জিত ভাষা ব্যবহার করা উচিত। মহান আল্লাহ মুসা (আ.) ও হারুন (আ.)-কে ফেরাউনের কাছে পাঠানোর সময়ও কোমলভাবে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। (সুরা তাহা ৪৪)

কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষ আলোচনাও বর্জন করতে হবে। এটি গিবত। মহান আল্লাহ গিবতকে অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কারও সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সত্য নয়, তা আরও ভয়াবহ। এটি অপবাদ। তাই কারও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি।

কথার মধ্যে ব্যঙ্গ ও উপহাসও থাকা উচিত নয়। মানুষের চেহারা, পোশাক, উচ্চারণ, আর্থিক অবস্থা বা কোনো দুর্বলতা নিয়ে হাসাহাসি করা আদবের পরিপন্থী। মহান আল্লাহ বলেন, ‘কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য কোনো সম্প্রদায়কে উপহাস না করে।’ (সুরা হুজুরাত ১১) রাগের সময় কথাবার্তায় আরও বেশি সতর্ক থাকা দরকার। রাগের মুহূর্তে মানুষ এমন অনেক কথা বলে ফেলে, যা পরে আর ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। তাই রাগ হলে কিছু সময় নীরব থাকা এবং নিজেকে সংযত করা উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে।’ (সহিহ বুখারি)

অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনাও কথাবার্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ আদব। কেউ কথা বলার সময় মাঝখানে বাধা দেওয়া, তার কথা শেষ হওয়ার আগেই মন্তব্য করা বা নিজের কথা চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। ধৈর্য ধরে অন্যের বক্তব্য শোনার বিষয়টি পারস্পরিক সম্মান বাড়ায়।

কেউ ব্যক্তিগত কথা বললে তা গোপন রাখা উচিত। মানুষের বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা মুমিনের দায়িত্ব। বিশেষ করে পারিবারিক সমস্যা, ব্যক্তিগত দুর্বলতা বা কারও গোপন তথ্য অন্যের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।

বর্তমানে কথাবার্তার বড় একটি ক্ষেত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। সেখানে লেখা মন্তব্য, ব্যক্তিগত বার্তা ও পোস্টের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। সামনাসামনি কাউকে যে কথা বলা যায় না, অনলাইনেও তা লেখা উচিত নয়। যাচাই না করে কোনো খবর ছড়িয়ে দেওয়া, কাউকে অপমান করা বা গুজব প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

লেখক : ধর্মীয় নিবন্ধকার

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত