যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে চলছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। সাধারণ বিতর্ক শুরুর দ্বিতীয় দিন গত বুধবার জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর জাতিসংঘে এটি ছিল তার প্রথম উপস্থিতি। জাতিসংঘের ইতিহাসে প্রথমবার স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে থাকা কোনো দেশের নেতা সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে টানা প্রায় সাত মাসের যুদ্ধের পর সাধারণ পরিষদে দৃঢ়কণ্ঠে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই মাথা নোয়াব না বা নতজানু হব না। তবে গায়ের জোর না দেখালে আমরা সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার জন্য প্রস্তুত।’
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইরান কখনো যুদ্ধ শুরু করেনি। আমাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি যে লড়াই করতে আমরা ভয় পাই না।’ তিনি আরও বলেন, তার দেশ ‘সন্ত্রাসবাদের শিকার’। যুদ্ধে বেসামরিক হতাহতের কথা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পেজেশকিয়ানের ভাষণের সময় সাধারণ পরিষদ কক্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র প্রতিনিধি সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
ভাষণের শুরুতে পেজেশকিয়ান ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি তুলে ধরেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই তিনি নিহত হন। এ ছাড়া ওইদিন যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক হামলায় নিহত ইরানি স্কুলশিশুদের ছবিও দেখান তিনি। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু। ইরানের দাবি, যেকোনো চুক্তিতে চিকিৎসা গবেষণা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ থাকতে হবে। তবে ওয়াশিংটন কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিরোধিতা করে। ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, ইরান পরমাণু অস্ত্র চায় না। তবে দেশটির বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা মেনে নেবে না।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইরানকে শক্তিশালী হতে হবে, যাতে হুমকি এড়ানো যায় এবং আমাদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে না পড়ে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে কেউ মনে না করে যে ইরানের শহরগুলোতে বোমা হামলার কোনো জবাব দেওয়া হবে না।’ এ সময় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রত্যাহারের দীর্ঘদিনের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমাদের আঞ্চলিক সমস্যাগুলো এই অঞ্চলের দেশগুলোর হাতেই, এই অঞ্চলের মধ্যেই সমাধান করতে হবে।’
এদিকে, আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়েই নিউ ইয়র্কে যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি নিউ ইয়র্কে নামবে না বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের একটি সংবাদমাধ্যম। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের বদলে নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে অবতরণ করবে। সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে খুবই কম সময় নিউইয়র্কে থাকবেন নেতানিয়াহু। ভাষণ শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেই তার ইসরায়েল ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।