সংকট দেখিয়ে কুমিল্লায় বেশি দামে সার বিক্রি

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০০ এএম

কুমিল্লায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিতে ১৩ থেকে ৩৩ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন। বিশেষ করে ইউরিয়া ও টিএসপি সারের দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে। তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, জেলায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। কোথাও কোথাও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকার নির্ধারিত দামে প্রতি কেজি ইউরিয়া ও টিএসপি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা এবং এমওপি ২০ টাকা। কিন্তু কৃষকদের অভিযোগ, বিভিন্ন বাজারে ইউরিয়া ৩৩ থেকে ৪০ টাকা, টিএসপি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, ডিএপি ৩৫ টাকা এবং এমওপি ৩৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লালমাই, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, চৌদ্দগ্রাম, চান্দিনা ও বুড়িচংসহ বিভিন্ন উপজেলার বাজারে খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

লালমাই উপজেলার কৃষক কামরুল হাসান বলেন, তার ৩০ শতক জমি রয়েছে। ধানের সার আনতে তিনি বাগমারা বাজারে যান। সেখানে প্রতি কেজি চিকন ইউরিয়া ৪০ টাকা, মোটা ইউরিয়া ৩৮ টাকা, টিএসপি ৬০ টাকা, ডিএপি ৩৫ টাকা ও এমওপি ৩৩ টাকায় বিক্রি করতে দেখেন। দুই-তিনটি দোকানে একই দাম ছিল। কোনো উপায় না পেয়ে ৫ হাজার ২০০ টাকার সার ও ওষুধ কিনেছি।

লাকসাম পৌর সদরের কৃষক মনোয়ার হোসেনও একই দামে সার কেনার কথা জানান। তার ভাষ্য, বিক্রেতারা বাজারে সারের সংকট রয়েছে বলে জানান। লাকসাম উপজেলার খিলা বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা হৃদয় হাসান বলেন, বাজারে সারের সংকট রয়েছে। আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, সেজন্য বেশি দামে বিক্রি করছি। লাকসামের একটি বড় সার বিক্রয়কেন্দ্র মমতাজের দোকান। ওই দোকান থেকে নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ, লালমাই, বরুড়া ও চৌদ্দগ্রামের কিছু এলাকার খুচরা বিক্রেতারা সার কেনেন। ওই খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, তাদেরও বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। ফলে বেশি দামে তারা বেশি বিক্রি করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলার বলেন, গতবারের তুলনায় চলতি মৌসুমে সার কিছটা কম এসেছে। এ কারণে দুই-এক টাকা বেশি দামে সার বিক্রি করছেন তারা। তাদের দাবি, বর্ষার সময় সার গলে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আবার মোটা ইউরিয়ার চেয়ে চিকন ইউরিয়ার চাহিদা বেশি থাকায় দামে কিছটা পার্থক্য আছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কুমিল্লায় ইউরিয়ার চাহিদা ৪ হাজার ৮৮০ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে মজুদ রয়েছে ৪ হাজার ৩৫৪ মেট্রিক টন। টিএসপির চাহিদা ১ হাজার ৩৯১ মেট্রিক টন, মজুদ ১ হাজার ৬৭৮ টন। ডিএপির চাহিদা ১ হাজার ৭৯২ টন, মজুদ ১ হাজার ৯৩৯ টন এবং এমওপির চাহিদা ১ হাজার ৭০৫ টন, মজুদ ১ হাজার ৯৬৪ টন। কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছর আগের তুলনায় ইউরিয়া ও ডিএপির মজুদ কমেছে। তবে টিএসপি ও এমওপির মজুদ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

নিয়মিত বাজার পরিদর্শনের দাবি কৃষি বিভাগের : এ বিষয়ে লাকসাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আল-আমিন বলেন, তার উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। বেশি দামে সার বিক্রি ঠেকাতে নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে। এরপরও কোথাও বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে লালমাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাইনি। তারপরও আমরা প্রতিনিয়ত বাজার পরিদর্শন করছি। কেউ বেশি দামে সার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমন মৌসুমে কুমিল্লায় সারের কোনো সংকট নেই। তবে কিছু জায়গায় ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা সংকট দেখিয়ে বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা করছেন। এ জন্য ডিলারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং বাজার পরিদর্শন করা হচ্ছে। যেখানে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাব, সেখানে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত