আগের দুই দেখায় ব্যবধান ছিল খুবই কম। একবার ২-১, আরেকবার ১-০ গোলে সিঙ্গাপুরের কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে দুই ম্যাচেই জয়ের সুযোগ ছিল বলে মনে করেন বাংলাদেশ দলের কোচ টমাস ডুলি। এবার সেই আক্ষেপ মুছে আসিয়ান কাপে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে চান তিনি। রবিবার বিকেল ৩টায় জাকার্তায় আসিয়ান কাপে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচটিকে সামনে রেখে ডুলির বার্তা পরিষ্কার, প্রতিপক্ষের র্যাঙ্কিং কিংবা শক্তিমত্তা নিয়ে না ভেবে নিজেদের ফুটবল খেলতে হবে।
জাকার্তায় ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ডুলি বলেন, ‘গত দুই ম্যাচ খুবই কঠিন ছিল। একবার ২-১, আরেকবার ১-০ গোলে তারা জিতেছে। কিন্তু খেলোয়াড়, সমর্থক ও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললে বোঝা যায়, ওই দুটি ম্যাচ আমরাও জিততে পারতাম। তাই এবার আমাদের ভিন্ন মানসিকতা ও ভিন্ন মনোভাব নিয়ে খেলতে হবে। আমি ম্যাচটি জিততে চাই, এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।’ মালয়েশিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের আগের ম্যাচের পারফরম্যান্সেও অসন্তুষ্ট ডুলি। তাঁর মতে, প্রতিপক্ষকে সুযোগ করে দিয়ে বাংলাদেশ নিজেরাই বিপদ ডেকে এনেছিল। এবার সেই ভুল আর করতে চান না তিনি।
ডুলির ভাষায়, ‘আমরা অনেক পিছিয়ে খেলেছি। মাঝমাঠ আঁটসাঁট রাখার চেষ্টা করেছি, কিন্তু তার মানে এই নয় যে প্রতিপক্ষকে খেলতে দিতে হবে। আমাদের আরও আগ্রাসী হতে হবে, বল এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়, দুটির বিরুদ্ধেই।’ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে তাই নিজেদের খেলার ধরন নিয়ন্ত্রণ করতে চান বাংলাদেশ কোচ। তিন মনে করেন প্রতিপক্ষকে খেলার সুযোগ দিলে যেকোনো দলই বাংলাদেশকে সমস্যায় ফেলতে পারে। এ কারণে বলের দখল, মাঠে চাপ তৈরি এবং সামনে খেলার ওপর জোর দিতে চান তিনি।
শমিত সোমও সিঙ্গাপুর ম্যাচটকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলাগুলোকে তিনি বড় আসরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘গত এক বছরের মধ্যে আমরা তাদের সঙ্গে দুটি ম্যাচ খেলেছি। এরপর ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে তারা (সিঙ্গাপুর) কীভাবে খেলেছে, সেটিও দেখেছি। এসব ম্যাচ থেকে আমরা শিখছি, কীভাবে তাদের দুর্বল জায়গাগুলো কাজে লাগানো যায় এবং তাদের শক্তির দিকগুলো কীভাবে সামলাতে হবে। আমরা মূলত ম্যাচের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছি। আশা করি, ভালো একটা ফল পাব।’
আগের দুই হারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের কাছে দুইবার হেরেছি। তাই একটা প্রতিশোধ নেওয়ার ইচ্ছা অবশ্যই আছে। ফিফা এশিয়ান কাপে সেটি করার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর কী হতে পারে! সেই লক্ষ্যেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি, আগামীকাল ভালো করতে পারব।’ সিঙ্গাপুরের খেলার ধরন নিয়েও বাংলাদেশের পরিষ্কার ধারণা আছে বলে জানান শমিত। ‘তাদের একটা নির্দিষ্ট কাঠামো ও ভালো একটা পরিচয় আছে। তারা যেভাবে খেলে, সেটার মধ্যে দুই-তিনটি রোটেশন আছে, যেগুলো বেশ বিপজ্জনক। তাদের কয়েকজন খেলোয়াড়ও আছে, যারা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তবে আমরা এসব আগেও দেখেছি। আগের ম্যাচগুলোতে তারা যেভাবে আমাদের শাস্তি দিয়েছে এবং সফল হয়েছে, সেখান থেকে আমরা শেখার চেষ্টা করছি। নতুন কোচের অধীনে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কিছু নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।’
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে আত্মসমালোচনাও করেছেন শমিত। তিনি বলেন, ‘আমাদের আলাদা করে কোনো অনুপ্রেরণার প্রয়োজন নেই। আমরা জানি, শেষ ম্যাচে ভালো খেলিনি। দলের সবাই, খেলোয়াড় থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফ—সবাই সেটা জানে। ব্যক্তিগতভাবেও আমি মনে করি, আমার আরও ভালো করা উচিত ছিল। আমরা ফুটবলার, আমরা জিততে চাই এবং প্রতিটি প্রতিযোগিতায় ভালো করতে চাই।’ শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ভালো একটি কৌশলগত লড়াই হবে বলেই মনে করেন শমিত। ‘তারাও আমাদের ভালোভাবে চেনে। নিশ্চয়ই তারা আমাদের বিশ্লেষণ করেছে এবং আমাদের হুমকিগুলো কীভাবে নিষ্ক্রিয় করা যায়, সেটাও ভাবছে। তাই এটি ভালো একটি ম্যাচ ও ভালো একটি কৌশলগত লড়াই হবে। আমরা ম্যাচটির অপেক্ষায় আছি এবং এবার ফলের সঠিক দিকটায় থাকতে চাই,’ বলেন তিনি।
মালয়েশিয়া ম্যাচে অভিষিক্ত জিদান ইউসুফ ডুলির নজর কেড়েছেন। মাঠে নেমে ভালো পারফরম্যান্স করায় সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে তাঁকে শুরু থেকেই দেখা যেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন কোচ। একই সঙ্গে চোটের সমস্যাও ভাবাচ্ছে বাংলাদেশকে। ডুলির মতে, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া খেলায় ফেরার কারণে কয়েকজন খেলোয়াড় চোটে পড়েছেন।
মোহামেডানকে 'চ্যাম্পিয়ন' করতে এসেছেন আর্জেন্টাইন কোচ ভারেলা