দুদিন আগেও যারা তাকে ছিঁচকে চোর বা মাদকসেবী বলে গালমন্দ করতেন, সে অনিকের বাড়িতে এখন শত শত মানুষ ভিড় করছেন তাকে সহানুভূতির পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা করতে। সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও বদলে দিয়েছে বরিশালের উজিরপুরের বামরাইল এলাকার অনিক সরদারের জীবন। গত রবিবার বিকেলে ইউএনও মো. আলী সুজা অনিকের বাসায় যান। তিনি বলেন, ‘অনিকের পরিবার এখন নতুন করে স্বপ্ন বুনছে। অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোর পথে হাঁটতে মেধাবী অনিক একটি চাকরি চেয়েছেন। দুই মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে সন্তানদের মানুষ করতে পারেন এ ব্যবস্থা করতে সমাজের মানুষের প্রতি অনুরোধ করেছেন।’
অনিকের স্ত্রী জান্নাতুল ফিরদাউস বলেন, তিনি এইচএসসি পাস করেছেন। তার দুটি সন্তান রযেছে তুবা আক্তার (৯) ও তুরিন ইসলাম তুনা (৩)। স্বামী অনিক সরদার আলোর পথে ফিরতে চায়। নিজেদের আয়ের কোনো পথ নেই। সংসারে অভাব দূর করতে এবং সন্তানদের মানুষ করতে স্বামীর কর্মসংস্থান বা তার নিজের জন্য একটি চাকরির অনুরোধ করেছেন তিনি। অশ্রুসজল চোখে অনিক বলেন, ‘আমি ভালোভাবে জীবনযাপন করতে চাই। কেউ আমাকে আয় রোজগারের পথ তৈরি করে দিলে আমি নিজেকে পরিবর্তন করব।’
ইউএনও আলী সুজা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাবার জন্য মেয়ের ভালোবাসা দেখেছে সারা পৃথিবীর মানুষ। তুবার বাবা অনিক সরদার আলোর পথে ফিরলে তিনি সরকারি সহায়তা দিয়ে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন। জানা যায়, মাদকের নির্মম গ্রাসে পড়ে একসময়ের মেধাবী শিক্ষার্থী অনিক সরদারের জীবনে নেমে এসেছে ঘোর অন্ধকার। সামাজিক সুনাম ও সচ্ছল পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও বন্ধুদের প্ররোচনায় মাদকে জড়িয়ে তার জীবনে এই চরম ছন্দপতন ঘটে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার বামরাইল বাজারে চুরিচেষ্টার সময় স্থানীয়রা আনিক সরদারকে বেঁধে মারধর করে। শনিবার সকালে বাবার আটকের খবর শুনে ছুটে আসে মেয়ে তুবা আক্তার। সে বাবাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মুখে খাবার তুলে দেয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও দেশ রূপান্তরসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। অনিক সরদারকে বেঁধে রাখার ঘটনায় মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং বাবাকে শিশু তুবার খাইয়ে দেওয়ার দৃশ্য মানুষের ব্যাপক সহানুভূতি কুড়ায়।