বিয়ে মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। উত্তম জীবনসঙ্গী পাওয়া প্রত্যেক মানুষের স্বপ্ন। কারও বিয়ে দ্রুত হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে বিলম্ব ঘটে। এ নিয়ে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, দোয়া ও ইস্তেগফার করা এবং বিয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত।
অতিদ্রুত হালাল ও সম্মানজনক রিজিক এবং উত্তম ও দ্বীনদার স্ত্রী কিংবা স্বামী পাওয়ার জন্য হজরত মুসা (আ.)-এর একটি দোয়া বেশি বেশি পড়া উচিত। দোয়াটি হলো, ‘রাব্বি ইন্নি লিমা আনযালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাক্বির।’ অর্থাৎ হে আমার প্রভু! নিশ্চয়ই আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহই নাজিল করবেন, আমি তার মুখাপেক্ষী। (সুরা কাসাস ২৪)
উত্তম জীবনসঙ্গী ও নেককার সন্তান-সন্ততির জন্য মহান আল্লাহর শেখানো কোরআনের একটি দোয়া বেশি বেশি পড়া খুব উপকারী। দোয়াটি হলো, ‘রব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আইয়ুনিও ওয়াজআলনা লিলমুত্তাক্বিনা ইমামা।’ অর্থাৎ হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন, যারা আমাদের চোখ জুড়িয়ে দেয় এবং আমাদের মুত্তাকি লোকদের নেতা বানিয়ে দিন।’ (সুরা ফুরকান ৭৪)
নিয়মিত সুরা আলাম নাশরাহ অর্থসহ বেশি বেশি পড়া এবং হৃদয় দিয়ে তা উপলব্ধি করা উচিত। কখনো হতাশ হওয়া যাবে না। আল্লাহর সাহায্য চাইতে থাকলে তিনি বান্দাকে সাহায্য করবেন। তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহর কর্তব্য হয়ে যায়। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহর জন্য কর্তব্য হয়ে যায়। আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী, এমন চুক্তিবদ্ধ গোলাম, যে তার মনিবকে চুক্তি অনুযায়ী সম্পদ আদায় করে মুক্ত হতে চায় এবং বিয়েতে আগ্রহী মানুষ, যে বিয়ের মাধ্যমে পবিত্র জীবন যাপন করতে চায়।’ (তিরমিজি ১৬৫৫)
কখনো কখনো হিংসা, কুনজর বা জাদুর কারণেও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজে বাধা আসে। যদি এমন আশঙ্কা থাকে, তবে কোরআন ও সহিহ হাদিসভিত্তিক রুকইয়া করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে সুরা ফাতেহা, আয়াতুল কুরসি, ইখলাস, ফালাক ও নাস নিয়মিত পড়া।
লেখক : ধর্মীয় নিবন্ধকার