আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নেতানিয়াহুর গোপন বৈঠক

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৭ এএম

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠক করেছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার বিষয়টি এই সফরের মধ্য দিয়ে আরও স্পষ্ট হয়েছে। এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত রবিবার সকালে একটি ব্যক্তিগত বিমানে করে আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে পৌঁছান নেতানিয়াহু। দিনের বেশির ভাগ সময় তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। পরে সেদিনই তিনি আবার ইসরায়েলে ফিরে আসেন। তবে দুই দেশের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নিয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইসরায়েলি পত্রিকা হারেৎজ-এর একটি প্রতিবেদন নিয়ে নতুন করে আলোচনার মধ্যেই এই গোপন সফরটি অনুষ্ঠিত হলো। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে শেখ মোহাম্মদ নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন যে গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি বড় অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সেই সতর্কবার্তা ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা বা সামরিক বাহিনীর কাছে পৌঁছানো হয়নি। তবে নেতানিয়াহু এই প্রতিবেদন অস্বীকার করেছেন এবং হারেৎজের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি একটি কঠিন পুনর্নির্বাচন প্রচারণার মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে বিরোধী নেতারা নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য তাকে দায়ী করছেন।

২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের অধীনে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে আবুধাবি এবং তেল আবিবের মধ্যে ‘উন্মুক্ত ও সরাসরি যোগাযোগ লাইন’ রয়েছে। এমনকি ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধের সময় নজিরবিহীন এক পদক্ষেপে ইসরায়েল সাময়িকভাবে তাদের আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আমিরাতে মোতায়েন করেছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়। ওই ব্যবস্থার সঙ্গে ইসরায়েলি পরিচালকরাও সেখানে অবস্থান করেন। সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় অধিকৃত ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের প্রতিবাদে কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধি অধিবেশনকক্ষ ত্যাগ করেন।

তবে আরব দেশগুলোর মধ্যে বাহরাইনের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরা তাদের আসনে বসে ছিলেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত