ভুয়া পাস বিক্রি: পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রীর বাসায় অভিযান

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দুর্গাপূজার আগে ‘পুজো পরিক্রমা’ বা বিভিন্ন পূজামণ্ডপের ‘প্রিভিউ শো’-এর নামে ভুয়া পাস বিক্রি করা হতো। এভাবে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ইডি।

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম

'দুর্গাপূজা পরিক্রমার' নামে ভুয়া পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের তদন্তে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে কলকাতার কসবার বাড়িতে অভিযান শুরু করেন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাটির কর্মকর্তারা। খবর আনন্দবাজার ডট কম।

ইডি সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার জানিয়েছে, ইন্দ্রনীলের বাড়িসহ কলকাতার মোট ১০টি স্থানে একযোগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এসব স্থানের মধ্যে হিন্দুস্তান পার্ক ও হাইল্যান্ড পার্কও রয়েছে। ইন্দ্রনীলের আত্মীয়দের কয়েকটি বাড়িতেও অভিযান চলছে। হাইল্যান্ড পার্কের একটি ঠিকানায় যে বাড়িতে তল্লাশি চলছে, সেটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তির বলে জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দুর্গাপূজার আগে ‘পুজো পরিক্রমা’ বা বিভিন্ন পূজামণ্ডপের ‘প্রিভিউ শো’-এর নামে ভুয়া পাস বিক্রি করা হতো। এভাবে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ইডি।

এ ঘটনায় গত জুনে কলকাতার বউবাজার থানায় ইন্দ্রনীল সেন, তার স্ত্রী মধুছন্দা সেন এবং ‘মাস আর্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। মধুছন্দা ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে ওই পাস বিক্রির ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপূজা ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে সংগঠনটি গড়ে ওঠে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সংগঠনটি নিজেদের কলকাতার দুর্গাপূজার প্রচারে ইউনেস্কোর ‘অফিশিয়াল পার্টনার’ হিসেবে পরিচয় দিত। তবে এই দাবি সত্য নয় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ।

তদন্তে আরও জানা গেছে, কলকাতার প্রায় ২৪টি দুর্গাপূজার ‘প্রিভিউ শো’-এর নামে পাস বিক্রি করা হয়েছিল। এসব পাসের দাম ছিল ১ হাজার ৭৪৯ থেকে ৫ হাজার ৪৯৯ রুপি পর্যন্ত। প্রচার করা হয়েছিল, ইউনেস্কো ওই ২৪টি পূজামণ্ডপ নির্বাচন করেছে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে ইডি সূত্র জানিয়েছে।

ইডির তদন্তে পাসের জন্য নিবন্ধনের হিসাবও সামনে এসেছে। ২০২২ সালে প্রায় ১৯ হাজার, ২০২৩ সালে ৩৪ হাজার এবং ২০২৪ সালে প্রায় ৬১ হাজার মানুষ এসব পাসের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন বলে জানা গেছে।

এই অভিযোগের তদন্তে পরে ইডিও যুক্ত হয়। অভিযান শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত