ব্রাসেলসের ম্যাচটি যখন একটি সাদামাটা গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই নিজের জাদুকরী পারফরম্যান্সে সব আলো কেড়ে নিলেন ‘সুপার সাব’ মাইকেল ওলিসে। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে নিজের অর্ধে বল পেয়ে দুর্দান্ত এক সোলো রান করে বেলজিয়ামের রক্ষণ দুর্গ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেন তিনি। তার করা চোখ জুড়ানো ওই গোলটিই ফ্রান্সকে এনে দেয় ১-০ গোলের জয়, যা ফরাসি শিবিরকে এনে দিল টানা দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ।
ইনজুরির কারণে তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে ছাড়াই এই ম্যাচ খেলতে নেমেছিল ফ্রান্স। দলের আক্রমণভাগে নতুন তেজ আনতে আগের ম্যাচের একাদশ থেকে বড় ৯টি পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ জিনেদিন জিদান। তরুণ ও নতুন মুখদের নিয়ে সাজানো একাদশ নিয়ে মাঠে নামলেও ম্যাচের সিংহভাগ সময় নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্লুজদেরই পায়ে।
প্রথমার্ধে দেসিরে দুয়ের দুর্দান্ত একটি শট ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয় এবং অভিষিক্ত লুকাস দা কুনহার জোরালো শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে, বেলজিয়াম গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্স বেশ কয়েকটি দারুণ সেভ করে ফরাসিদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন।
তবে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে সব প্রতিরোধ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেন ৭৭ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ওলিসে। নিজস্ব অর্ধে বুক দিয়ে বল নামিয়ে গতি বাড়িয়ে বেলজিয়ামের ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে বল জালে জড়ান তিনি। তার এই অবিশ্বাস্য গোলের পরই টাচলাইটে দেখা যায় এক দারুণ দৃশ্য, উত্তেজনা ধরে রাখতে না পেরে ডাগআউট থেকে সজোরে দৌড়ে গিয়ে মাঠে থাকা একটি আলগা বলকে সজোরে কিক করে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন কোচ জিদান।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের এই শিশুসুলভ উদযাপন ও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে মুখ খোলেন ফরাসি কোচ। সেই বিশেষ মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে জিদান বলেন, ‘আমি খেলার প্রবাহের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলাম এবং সেটার একটা অংশ হতে চেয়েছিলাম। আমি বুঝতে পেরেছিলাম সে ড্রিবল করে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সে একটি অসাধারণ প্লে তৈরি করেছে, তাই আমি তাকে অনুসরণ করতে চেয়েছিলাম। আর তখন সেখানে বলটা দেখে আমার মনে হলো আমার শট নেওয়া উচিত। এটা হয়তো কিছুটা হাস্যকর হতে পারে, তবে তাতে কিছু আসে যায় না।’
স্কোয়াডে এত বড় পরিবর্তন আনা এবং তরুণদের ওপর আস্থা রাখার বিষয়ে জিদান আরও যোগ করে বলেন, ‘আমি আমার খেলোয়াড়দের বিশ্বাস করি। আমি বিশ্বাস করি আমার একটি গ্রুপ আছে, একটি দল আছে যারা একে অপরের সঙ্গে ভালো বোঝাপড়া রাখে এবং একসঙ্গে ভালো কাজ করে। আমার কাছে উচ্চমানের খেলোয়াড় রয়েছে। কী হতে পারে তা নিয়ে আমার মনে কোনো ভয় ছিল না। শুরু থেকেই পরিকল্পনা এমনই ছিল। আমি নিজেকে বলেছিলাম যে আমার হাতে ২৩ জন খেলোয়াড় রয়েছে এবং আমি একসময় তাদের সবাইকে ব্যবহার করব।’
কোচ জিদানের অধীনে টানা দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ পেল বর্তমান ফরাসি শিবির। পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘স্ট্যাটস ফুট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ফরাসি ডাগআউটে পা রেখেই এক বিরল ইতিহাস গড়েছেন এই কিংবদন্তি কোচ। ফ্রান্সের জাতীয় দলের দায়িত্বে আসার পর প্রথম দুই আনুষ্ঠানিক ম্যাচেই জয় পাওয়া মাত্র চতুর্থ কোচ তিনি। এর আগে ১৯৬৪ সালে হেনরি গুয়েরিন, ১৯৮৪ সালে হেনরি মিচেল এবং সর্বশেষ ১৯৯৪ সালে আইমে জ্যাক এই কীর্তি গড়েছিলেন। অর্থাৎ, দীর্ঘ ৩২ বছরে ফরাসি ফুটবলে আর কোনো নতুন কোচ এমন দুর্দান্ত সূচনা করতে পারেননি। এর আগে দিদিয়ের দেশমের কোচিং ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে।
এদিকে এই জয়ে উয়েফা নেশনস লিগের গ্রুপ এ১-এর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করল ফ্রান্স। আগামী শুক্রবার স্তাদে দ্য ফ্রান্সে ইতালির মুখোমুখি হবে জিদানের দল, অন্যদিকে বেলজিয়াম লড়বে তুরস্কের বিপক্ষে।
দুই ভাই প্রাণ ফেরালো ইতালি ফুটবলে