ইউরোপিয়ান ফুটবলের এই রাতে রোমাঞ্চের কোনো কমতি রাখেনি দুই পরাশক্তি ফ্রান্স ও ইতালি। জিনেদিন জিদানের চতুর কৌশলে শেষ মুহূর্তের জাদুতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানের নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছেন ফরাসিরা। আর রবার্তো মানচিনির অধীনে তুরস্ককে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন আজ্জুরিরা।
ইনজুরির কারণে কিলিয়ান এমবাপ্পে ছাড়াই ব্রাসেলসের কিং বদোউইন স্টেডিয়ামে খেলতে নেমেছিল ফ্রান্স। আক্রমণভাগে নতুন তেজ আনতে একাদশে বড় ৯টি পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ জিদান। তরুণদের নিয়ে সাজানো দল পুরো ম্যাচে আধিপত্য রাখলেও গোল পেতে ঘাম ঝরাতে হয় ব্লুজদের। প্রথমার্ধে দেসিরে দু এবং লুকাস দা কুনহার শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। তবে ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে সব প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেন ৭৭ মিনিটে বদলি নামা মাইকেল ওলিসে। নিজের অর্ধে বল পেয়ে দুর্দান্ত সোলো রান করে বেলজিয়ামের রক্ষণ ভেঙে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
জয়সূচক এই গোলের পরই টাচলাইটে দেখা যায় এক শিশুসুলভ দৃশ্য; ডাগআউট থেকে সজোরে দৌড়ে গিয়ে মাঠে থাকা আলগা বল কিক করে আনন্দ প্রকাশ করেন জিদান। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের এই আবেগি উদযাপন নিয়ে ফরাসি কোচ বলেন, ‘আমি খেলার প্রবাহের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলাম এবং সেটার একটা অংশ হতে চেয়েছিলাম। আমি বুঝতে পেরেছিলাম সে ড্রিবল করে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সে একটি অসাধারণ প্লে তৈরি করেছে, তাই আমি তাকে অনুসরণ করতে চেয়েছিলাম। আর তখন সেখানে বলটা দেখে আমার মনে হলো আমার শট নেওয়া উচিত। এটা হয়তো কিছুটা হাস্যকর হতে পারে, তবে তাতে কিছু আসে যায় না।’ এই জয়ের সুবাদে ফরাসি ডাগআউটে পা রেখেই টানা দুই ম্যাচে জয় পাওয়া মাত্র চতুর্থ কোচ হিসেবে ৩২ বছরের খরা কাটিয়ে বিরল ইতিহাস গড়লেন এ কিংবদন্তি।
ফরাসিদের এই রোমাঞ্চকর জয়ের রাতে একই সময়ে তুরস্কের মাঠে গোলবন্যা বইয়ে দিয়েছে ইতালি। আগের ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে হারের ধাক্কা সামলে নেশনস লিগের মঞ্চে ৪-১ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে রবার্তো মানচিনির দল। বুরসার এই ম্যাচে নবম মিনিটে কর্নার থেকে বল পেয়ে দলকে এগিয়ে দেন আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। এরপর ওয়ান-টাচ পাসিং মুভ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দাভিদে ফ্রাত্তেসি। এর ঠিক পাঁচ মিনিট বাদে পিয়ো এসপোসিতোর পাস থেকে নিচু শটে নিজের আন্তর্জাতিক অভিষেক রাঙান মাইকেল কাওদে।
সেখান থেকে বিরতির পর তুরস্ক এক গোল শোধ করলেও সান্দ্রো তোনালির শট পোস্টে লেগে ফেরার পর ফিরতি বলে নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান তরুণ ফরোয়ার্ড পিয়ো। এতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-১ এ, আর এ ব্যবধানেই মানচিনির ফেরার পর প্রথম জয় পান আজ্জুরিরা।
তবে বড় জয় বা জয়ে ফেরা এসব ছাপিয়ে এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয় ছিল ইতালির একাদশ গড়ার অনন্য ইতিহাস। ২১ বছর বয়সী ছোট ভাই পিয়ো আগে থেকেই জাতীয় দলে খেললেও, এই ম্যাচে অভিষেক হয়েছে বড় ভাই ২৪ বছর বয়সী সেবাস্তিয়ানো এসপোসিতোর। ইতালির ফুটবল ইতিহাসে দুই ভাই একসঙ্গে শুরুর একাদশে খেলার ঘটনা সর্বশেষ ঘটেছিল ১১১ বছর আগে ১৯১৫ সালে। এ ছাড়া তাদের আরেক ভাই সালভাতোরে আগেই খেলায় তিন ভাইয়ের সিনিয়র দলে প্রতিনিধিত্ব করার বিরল হ্যাটট্রিকও পূর্ণ হলো।
ভাইয়ের সঙ্গে মাঠে নামার অনুভূতি প্রকাশ করে ফরোয়ার্ড পিয়ো এসপোসিতো ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘সিনিয়র দলের হয়ে আমার প্রথম ম্যাচের কথা ভালোভাবেই মনে রেখেছি। কারণ এটি ঠিক গত বছরই ছিল, তাই আমি তার কাঁধে অতিরিক্ত কোনো চাপ দিতে চাইনি। আমি আশা করি সে এটি পুরোপুরি উপভোগ করেছে। তার সঙ্গে এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া সত্যিই চমৎকার ছিল এবং আমি আশা করি ভবিষ্যতে আরও বহুবার এমন করার সুযোগ পাব।’