আস্থা ফিরছে ইসলামি ব্যাংকিংয়ে

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫২ এএম

দেশের ইসলামি ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কয়েকটি ব্যাংকে ব্যাপক অনিয়ম, বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ এবং আমানতকারীদের চাহিদামতো টাকা তুলতে না পারার ঘটনায় এই খাতের ওপর আস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর আর্থিক ভিত্তি পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহও এখনো রয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের ঋণের বড় অংশ খেলাপি হয়ে পড়েছিল। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণস্থিতি ছিল প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। বিপুল অঙ্কের এই খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর আর্থিক সংকটকে গভীর করেছে। এর প্রভাব পড়েছে আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলন এবং সামগ্রিক ইসলামি ব্যাংকিং খাতের সূচকেও।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, পাঁচটি ব্যাংকের সংকট দিয়ে পুরো ইসলামি ব্যাংকিং খাতের অবস্থা বিচার করা ঠিক হবে না। এসব ব্যাংকের বাইরে বেশ কয়েকটি ইসলামি ব্যাংক স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং মুনাফাও করছে। ফলে কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম ও আর্থিক দুরবস্থার কারণে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের মূল ধারণা কিংবা এ ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আগ্রহ শেষ হয়ে যায়নি। আমানত ফেরতের কার্যক্রমেও কিছু ইতিবাচক চিত্র দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮২ জন আমানতকারী ৬ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেন। এর মধ্যে ৯০ হাজার ৯৮ জনকে ৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়। একই সময়ে ব্যাংকটিতে নতুন আমানত জমা পড়ে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এ সময়ে ৩২ হাজার ৭৪টি নতুন হিসাব খোলা হয়, যাতে জমা হয় ৩৭৮ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদ বিশ্লেষক ও গবেষক হেলাল আহমেদ খান জনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইসলামি ব্যাংকিং খাতে এখনো আস্থার সংকট রয়েছে। এ সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে শুধু টাকা উত্তোলনের সুযোগ দিলেই হবে না, ব্যাংক পরিচালনায় স্বচ্ছতা, খেলাপি ঋণ আদায়, মূলধন শক্তিশালী করা এবং আর্থিক অবস্থার উন্নতি নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া যাদের নামে বেনামে খেলাপি রয়েছে তাদের সরকার যদি তা বিক্রির উদ্যোগ নেয় তাহলে খেলাপি কমে আসবে আরও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত, খেলাপি ঋণ আদায়, পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর আর্থিক তথ্য নিয়মিত প্রকাশ এবং আমানতকারীদের সঙ্গে স্বচ্ছ যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ এবং নতুন আমানত জমার তথ্য ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত