বাংলাদেশ ক্রিকেটে এমন নজির প্রথমবার। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে নতুন সংযোজন ‘ডমেস্টিক থ্রি’ বা ডি থ্রি ট্রফির কোচিং স্টাফ চূড়ান্ত হলো ড্রাফটের মাধ্যমে। গতকাল মিরপুরে হওয়া এই ড্রাফটের মাধ্যমে ছয়টি দল সর্বমোট তিনজন করে কোচ বেছে নেয়। শুরুতে জানা যায়, প্রথম ডাকে যাকে বেছে নেবে দলগুলো, তিনিই হবেন সে দলের প্রধান কোচ। এরপর দুজন করে সহযোগী কোচ চূড়ান্ত করে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের নামও জানিয়ে দেয় সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে। তবে টুর্নামেন্টের অন্যতম দল সেভেন রিংস সিমেন্ট তালহা জুবায়েরকে প্রথম ডাকে দলে নিলেও এখনই তাকে প্রধান কোচ হিসেবে ঘোষণা দিতে রাজি নয়।
এ নিয়ে দলটির নির্বাচক শামসুর রহমান শুভ বলেন, ‘জিনিসটা হচ্ছে যে, আপনে এখান থেকে যে কাউকেই নিতে পারেন। সেটা ফ্র্যাঞ্চাইজিই ঠিক করবে যে, কে প্রধান কোচ হবে, কে সহকারী কোচ হবে। আমরা নিজেরা বসে আগে ঠিক করব, কাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া যায়। এরপর জানিয়ে দেওয়া হবে আমাদের প্রধান কোচের নাম।’
এই দলে তালহার পাশাপাশি অন্য দুজন কোচ হলেন হান্নান সরকার ও হুমায়ন কবির শাহিন। হান্নান ঘরোয়া ক্রিকেটের সফল কোচদের একজন। সর্বশেষ দুই বছরের মধ্যে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে আবাহনী লিমিটেডকে চ্যাম্পিয়ন করানোর পর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকেও শিরোপা জেতান সাবেক এ ক্রিকেটার। সদ্য সমাপ্ত জিডি ট্রফিতে অনূর্ধ্ব-১৯ দলকেও চ্যাম্পিয়ন করেন তিনি। এ জন্য তাকেই প্রধান কোচের দায়িত্ব দিতে চায় সেভেন রিংস সিমেন্ট।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সব সিদ্ধান্তই ফ্র্যাঞ্চাইজির হাতে ছেড়েছে বিসিবি। চাইলে তিন কোচের মধ্যে যে কাউকেই প্রধান কোচ হিসেবে বেছে নিতে পারবে তারা। এ নিয়ে টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘তালিকায় তখন ৩৫ জন ছিল, সেই ৩৫ জনের মধ্যেই তারা প্রথম ডাকে প্রধান কোচ নিয়েছেন। যার ইচ্ছা তাকেই তারা নিতে পেরেছেন। এটা সম্পূর্ণ তাদের ব্যাপার। তবে এমন কোনো বাধা ছিল না যে, নির্দিষ্ট কাউকে নিতে পারবে বা অন্য কাউকে নিতে পারবে না। এখন চাইলে তারা যে কাউকে প্রধান কোচ বানাতে পারে। সমস্যা নেই।’
তবে দায়িত্ব বণ্টনের আগে আরেকটি বিষয়ও সামনে এসেছে, কোচদের পারিশ্রমিক। প্রধান কোচ ও সহকারী কোচের বেতনে পার্থক্য থাকবে বলে জানিয়েছেন টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আলমগীর। তবে এখনো সেটি চূড়ান্ত হয়নি বলে দাবি তার, ‘প্রধান কোচ এবং সহকারী কোচের পারিশ্রমিকে তো পার্থক্য থাকবেই। সেটা আমরা এখনো চূড়ান্ত করিনি। এ নিয়ে এখন কাজ চলছে।’
এদিকে ছয় দলের কোচিং স্টাফে জাতীয় দলের কোচসহ ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখদের জায়গা হয়েছে। ফরচুনের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তার সহকারী হিসেবে আছেন জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল ও আবদুল করিম জুয়েল। বাকি চার দলের মধ্যে এইস ব্লু স্টার্সের প্রধান কোচ সোহেল ইসলাম, একমির রাজিন সালেহ, সিটিজেনস ব্যাংকের মিজানুর রহমান বাবুল এবং ওয়ালটনের প্রধান কোচ হয়েছেন আবদুর রাজ্জাক। অর্থাৎ ডি থ্রি ট্রফিতে কোচিং প্যানেলেও জাতীয় ও ঘরোয়া ক্রিকেটের অভিজ্ঞতার মিশেল দেখা যাচ্ছে।
জাতীয় দলের কোচরা ডি থ্রি ট্রফিতে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জাতীয় দলের ব্যস্ততার মুখে পড়লে কী হবে, সেটিও পরিষ্কার করেছে বিসিবি। এ নিয়ে আলমগীর বলেন ‘আমাদের ড্রাফটের তালিকাটা বেশ বড়। এখানে প্রধান কোচের জন্য ৩৫ জনের নাম আছে। জাতীয় দলের কোচদের ক্ষেত্রে খেলা বিবেচনা করেই দলগুলো তাদের দলে নিয়েছে। আরেকটা বিষয় বলে রাখি, আমাদের ড্রাফটের যে নিয়ম এখানে পরিবর্তনের সুযোগ আছে। যদি জাতীয় দলের কোনো কোচ দায়িত্ব পালন করতে না পারেন তার বদলি নেওয়া যাবে।’
ক্রিকেটারদের ড্রাফট ঘরোয়া ক্রিকেটে পরিচিত হলেও ম্যানেজমেন্ট ড্রাফট ছিল নতুন অভিজ্ঞতা। ড্রাফট রুমে উপস্থিত ওয়ালটনের আইকন ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজের কাছেও বিষয়টি ছিল ভিন্নধর্মী, ‘অবশ্যই এটা একটা নতুনত্ব। প্রথমবার ঘরোয়া ক্রিকেটকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। ক্রিকেট বোর্ডকে এটার জন্য কৃতিত্ব দিতে হবে। তারা যেভাবে পুরো বিষয়টি সাজিয়েছে এবং চেষ্টা করে গেছে এটা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।’
ম্যানেজমেন্ট ড্রাফটে কে কোন দলে
ওয়ালটন
কোচ : আব্দুর রাজ্জাক, তুষার ইমরান ও ডলার মাহমুদ
ট্রেনার : আসলাম খান, ফিজিও : এনামুল হক, অ্যানালিস্ট : নাসির আহমেদ নাসু
ফরচুন গ্রুপ
কোচ : মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, মোহাম্মদ আশরাফুল ও আব্দুল কাইয়ুম জুয়েল।
ট্রেনার : মনিরুজ্জামান, ফিজিও : বায়জেদুল ইসলাম খান, অ্যানালিস্ট : এমদাদুল হক।
এইস ব্লু স্টার
কোচ : সোহেল ইসলাম, সালাউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল ও আশিকুর রহমান।
ট্রেনার : রুবাইয়াত হক, ফিজিও : জয় বিশ্বাস, অ্যানালিস্ট : এসএম জুলফিকার আলি।
একমি
কোচ : রাজিন সালেহ, তারেক আজিজ ও ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স
ট্রেনার : তুষার হাওলাদার, ফিজিও : আবু রেজা শরিফুল ইসলাম, অ্যানালিস্ট : সন্দীপ কুমার
সিটিজেন ব্যাংক
কোচ : মিজানুর রহমান বাবুল, নাজমুল হোসেন ও মোহাম্মদ সেলিম
ট্রেনার : কৈলাশনিশি রায় বসু, ফিজিও : খাইরুল ইসলাম, অ্যানালিস্ট : অনীক নিয়োগী
সেভেন রিংস
কোচ : তালহা জুবায়ের, হান্নান সরকার ও হুমায়ুন কবির শাহীন
ট্রেনার : ইফতেখারুল ইসলাম, ফিজিও : দেলোয়ার হোসেইন, অ্যানালিস্ট : জাহান-ই-আলম।