সংস্কার কর্মসূচিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে গোলটেবিল আলোচনা

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদারের অঙ্গীকার নিয়ে আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তরুণদের অগ্রাধিকার, উদ্বেগ ও সুপারিশ তুলে ধরার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, জবাবদিহিতা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা ও করণীয় নিয়ে আলোচনা ছিল এ গোলটেবিলের মূল লক্ষ্য।

‘জয়েনিং ইয়ুথ ইন ইফেক্টিভ এনগেজমেন্ট ইন রিফর্ম এজেন্ডাস ইন বাংলাদেশ (জয়ি)’ প্রকল্পের আওতায় ভয়েস ও দ্য বাংলাদেশ ডায়ালগ যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।

আলোচনায় নীতিনির্ধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং তাদের মতামত তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় হয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পাশাপাশি তরুণদের উদ্বেগ ও ভাবনা তুলে ধরে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক উন্নয়ন নিয়ে জনআলোচনা জোরদারে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।

দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ বলেন, ‘একটি গঠনমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য প্রাণবন্ত গণমাধ্যম অপরিহার্য। তাই তরুণদের উচিত সংস্কারের দাবি অব্যাহত রাখা এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক পক্ষগুলোর জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে সোচ্চার থাকা।’

সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট সোহরাব হাসান বলেন, ‘তরুণদের প্রত্যাশা ও উদ্বেগকে কেবল আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সেগুলোকে বৃহত্তর জনআলোচনায় তুলে ধরার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।’

তিনি বলেন, তরুণ ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে তরুণদের প্রত্যাশাগুলো নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা সম্ভব।

প্রথম আলোর ইংরেজি বিভাগের প্রধান আয়েশা কবির বলেন, ‘বর্তমান সময়ে দেশের তরুণদের কণ্ঠস্বরকে উন্মুক্ত আলোচনা ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের মূলধারায় যুক্ত করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম এক অনন্য সেতু হিসেবে কাজ করে। বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করা দরকার।’

সংলাপের সমাপনী বক্তব্যে ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, ‘তরুণদের অংশগ্রহণ শুধু পরামর্শ গ্রহণ বা প্রতীকী প্রতিনিধিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। এমন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা প্রয়োজন, যার মাধ্যমে তরুণরা সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব রাখতে, প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় অর্থবহ ভূমিকা রাখতে পারে।’

আলোচনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, সহসম্পাদকসহ তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা প্রবীণদের অভিজ্ঞতা ও তরুণদের উদ্যমকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

গণমাধ্যমের প্রশাসনিক দায়িত্বে নারী ও আদিবাসী সাংবাদিকদের অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। একই সঙ্গে সংস্কার বাস্তবায়নে জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় তরুণদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাসহ গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত