নারায়ণগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল আরও এক ছাত্রীর, মৃত্যু বেড়ে ৩

গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফতুল্লার কাশিপুরে মাহেলা খাতুন বালিকা মাদরাসার ছাদে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন আহত হন। তাদের মধ্যে আতিয়া, জিদনী ও লামিয়ার অবস্থা ছিল গুরুতর।

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৫ এএম
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদ্রাসার ছাদে খেলতে গিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের তার বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আরও এক মাদরাসা ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো তিনে।
 
বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টায় জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লামিয়া (১৫) মৃত্যুবরণ করেন।
 
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার। এর আগে, গত মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় দগ্ধ শিক্ষার্থী আতিয়া (১১) এবং বুধবার জিদনি (১৪) মৃত্যুবরণ করেন।
 
বৃহস্পতিবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন লামিয়া। দুর্ঘটনায় তার শরীর ৫৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
 
গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফতুল্লার কাশিপুরে মাহেলা খাতুন বালিকা মাদরাসার ছাদে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন আহত হন। তাদের মধ্যে আতিয়া, জিদনী ও লামিয়ার অবস্থা ছিল গুরুতর। তিনজনই আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অপর দুই শিক্ষার্থী আসিয়া (১২) ও সুমাইয়া (১৩) হাসপাতালের ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার বিকেলে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ছাদে খেলাধুলা করছিল। মাদ্রাসা ভবনের পাশ দিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের লাইন ও একটি ট্রান্সফরমার রয়েছে। খেলাধুলার একপর্যায়ে বিকট শব্দ হয়ে আগুন ধরে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ছাদে থাকা আখের ডগাসদৃশ বস্তু দিয়ে বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শ হলে সেটি স্পার্ক করে আগুন ধরে যায়।
 
স্থানীয় বাসিন্দা রাজিয়া আক্তার বলেন, বিকেলে ছাদ থেকে বিকট শব্দ ও চিৎকার শুনে আমরা তাকিয়ে দেখিয়ে আগুন জলছে। তবে দ্রুতই সেই আগুন নিভে যায় এবং আমরা দৌড়ে ছাদে উঠে শিশুদের উদ্ধার করি। এলাকার লোকজন অটোরিক্সায় তুলে তাদের হাসপাতালে পাঠায়।
 
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ শিকদার বলেন, মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ফ্ল্যাশ বার্নের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন মৃত্যুবরণ করেছেন। নিহতদের মধ্যে আতিয়া ৪৫ শতাংশ, জিদনি ৮২ শতাংশ এবং লামিয়া ৫৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিলেন। বাকি দুজন অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থায় আছেন।
 
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, ‘আমরা প্রাথমিক ভাবে তদন্ত করে জানতে পেরেছি ছাদে থাকা অবস্থায় শিশুদের হাতে আখ ছিলো। কোনভাবে সেটি বৈদ্যুতিক তারে সংস্পর্শে এসে স্পার্ক তৈরী হয়। সেখান থেকেই গ্যাস রাইজারে আগুন ধরে এবং তারা দগ্ধ হন।’
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত