যানবাহন ও মেশিনের ভেজাল বা নিম্নমানের লুব্রিকেন্ট ব্যবহার যেসব ঝুঁকি তৈরি করে, ব্যয় বৃদ্ধিসহ ক্ষতির কারণ হয়, তা একটু সচেতন থাকলেই এড়ানো যায়।
লুব্রিকেন্ট কেনায় সতর্কতা : ভালো মানের লুব্রিকেন্ট কোম্পানি অনুমোদিত ও নির্ভরযোগ্য আউটলেট ও ডিলার, বান্ডেড ফুয়েল স্টেশন (পেট্রোল পাম্প) থেকে কেনা যায়।
তার আগে গাড়ি বা যন্ত্রের ম্যানুয়েল দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় কোন (এসএই) গ্রেডের (যেমন: ৫ডব্লিউ-৩০, ২০ডব্লিউ-৫০) অয়েল ইঞ্জিনের জন্য প্রয়োজন। ভুল গ্রেডের অয়েল (যদিও তা আসল হয়) ইঞ্জিনের ক্ষতি করতে পারে।
বোতলের গায়ে এপিআই-এর (আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট) লোগো ও গ্রেড (এপিআই এসপি, এসএন), ডিজেল ইঞ্জিনের জন্য (সিএইচ-৪, সিআই-৪) ইত্যাদি আছে কি না, দেখে নেওয়া যায়। এটি অয়েলের গুণগত মানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
রসিদ সংগ্রহ : লুব্রিকেন্ট কেনার সময় অবশ্যই ক্যাশ মেমো বা রসিদ সংগ্রহ করা দরকার। অয়েল ব্যবহারের পর যদি ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বা ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করতে এটি প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।
প্যাকেজিং ও সিল পরীক্ষা : অনেক সময় পুরনো বোতলে ভেজাল অয়েল ভরে বিক্রি করা হয়। তাই বোতলের মুখ বা সিল অক্ষত আছে কি-না, দেখা দরকার। বোতলের গায়ের অস্পষ্ট লেখা বা নিম্নমানের প্লাস্টিক ভেজালের লক্ষণ হতে পারে।
নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, কিউআর কোড : ভালো ব্র্যান্ড বোতলে কিউআর কোড, স্ক্র্যাচ কার্ড বা বিশেষ সিকিউরিটি সিল ব্যবহার করে। কেনার আগে মোবাইলে স্ক্যান করে বা এসএমএস পাঠিয়ে পণ্যের আসল-নকল যাচাই করে নেওয়া যায়।
ব্যবহৃত তেলের মান পর্যবেক্ষণ : লুব্রিকেন্ট বদলানোর সময় পুরনো তেল কেমন বের হচ্ছে, তা খেয়াল করা যায়। যদি তেলের রঙ খুব দ্রুত আলকাতরার মতো কালো হয়ে যায় বা ভেতরে গাদ (সøাজ) জমে যায়, তবে বুঝতে হবে আগের অয়েল ভেজাল ছিল।
পুরনো অয়েল বা বোতল ধ্বংস করা : খালি বোতলগুলো ফুটো বা নষ্ট করা দরকার, যাতে অসাধু চক্র এগুলো পুনরায় ব্যবহার করতে না পারে। ব্যবহৃত পুরনো লুব্রিকেন্ট ড্রেনে বা মাটিতে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা প্রয়োজন।
অভিযোগ করা নাগরিক দায়িত্ব : লুব্রিকেন্টসহ যেকোনো পণ্য ভেজাল গছিয়ে দিয়েছে বুঝতে পারলে নীরব না থেকে অভিযোগ করে নাগরিক দায়িত্ব পালন করা যায়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে ১৬১২১ নম্বরে অথবা বিএসটিআইকে জানানো যায়।