লিটনদের স্বপ্নটা ছিল সোনালী সাফল্যের। তবে সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হেরে তখন সেটা হাতছাড়া হলো তখন কেবল সমীকরণ ছিল গত দু'বারের মতো ব্রোঞ্জ জিতেই বাড়ি ফেরা। তবে সেটিও আর হলো কই! ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে দিনশেষে প্রাপ্তি খাতায় উঠলো শূন্য। এশিয়ান গেমসের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে হেরে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে বাংলাদেশের ইতিহাসের শুরুটাই ছিল সোনা দিয়ে। ২০১০ আসরে প্রথমবার যখন মহাদেশীয় এই মঞ্চে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হল সেবারই স্বর্ণপদক জিতেছিলেন আশরাফুক-শাহাদতরা। এরপরের দুই আসরেও ব্রোঞ্জ জিতেছিল লাল-সবুজরা। তবে সেসব অর্জন ছাপিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট কোনো পদক জিতল না বাংলাদেশ।
জাপানের নিশিনে কোরোগি স্পোর্টস পার্কে এদিন আর বাধা দেয়নি বৃষ্টি। সেখান টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ে সিদ্ধান্তের নেয় শ্রীলঙ্কা। মাহেদী- আলিসদের স্পিন ঘূর্ণিতে শুরুটা লঙ্কানদের বেশ নড়বড়ে হলেও শেষদিকে মুস্তাফিজ-রিশাদদের নিয়ন্ত্রণহীন বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১৬৫ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় শ্রীলঙ্কা।
সেই লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নুয়ান তুশারার পেস তোপে যেন একদম নুইয়ে পড়ে বাংলাদেশের টপ-অর্ডার। একে একে সাজঘরে সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক লিটন দাস। স্কোরবোর্ডে তখন কেবল ৪ রান, তাতেই নেই তিন উইকেট। তবে স্কোরবোর্ডে ৪ রান উঠলেও সাইফ, তানজিদ ও লিটন ফিরেছেন হ্যাটট্রিক 'ডাক' মেরে।
সেখানে শেষ ভরসার নামটা ছিল তাওহীদ হৃদয়ের। তিনিও করলেন হতাশ। দলীয় সংগ্রহ ১৮ রানের মাথায় ফিরলেন তিনিও (১১ রান করে)। সেখানেই জয়ের রাস্তাটায় যেন জল নেমে আসে লিটনদের। তবে ইয়াসির আলীকে নিয়ে কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। তবে সেই জুটিও স্থায়ী হলো না সেভাবে। নবম ওভারে সোহানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইমন (২০)। স্কোরবোর্ডে তখন কেবল ৫০ রান আর সাজঘরে অর্ধেক দল।
সেখান থেকে বাকি সময়টা যেন যা অনুমেয় ছিল তাই ঘটল। কোনো চমকের নজির না মিলিয়ে একে একে ফেরেন বাকি ব্যাটাররাও। শঙ্কা ছিল একশ'র আগেই গুটিয়ে যাওয়ার। তবে শেষদিকে ন নাসুম আহমেদের ২৬ রানে চড়ে কোনোমতে ১০০-এর ঘর পার করে ১৭ ওভার ৩ বলে ১০২ রানে অলআউট হয় লিটন দাসের দল।
এর আগে লঙ্কানদের ব্যাটিংয়ের শুরুটাও ছিল বাংলাদেশের মতোনই। ২১ রানের মাথাতেও তারাও হারিয়ে বসে ৪ উইকেট। আর দলীয় সংগ্রহ ৫০ পেরোতেই নেই পাঁচ উইকেট। ১২ রানের মধ্যে লঙ্কানদের দুই ওপেনারকে ফেরান শেখ মাহেদী। তার স্পিন ঘূর্ণিতে বেশ ভালোভাবেই সঙ্গ দেন আলিস-সাইফ-রিশাদরা। প্রথম ১৩ ওভারে কোনো পেসারকেই বল দেননি লিটন, অবশ্য পেসার ছিলেন কেবল একজনই মুস্তাফিজুর রহমান। ১৩ ওভার শেষে লঙ্কানদের স্কোরবোর্ডে ছিল ৫ উইকেটে কেবল ৬৩ রান; রান রেট ৫-এরও কম। এতে ব্রোঞ্জ জয়ের ম্যাচে লক্ষ্যটা নাগালেই দেখছিল বাংলাদেশ।
তবে বিপত্তির শুরু সেখান থেকেই। ১৪ ওভারে ম্যাচে প্রথমবার বল হাতে নিয়ে সেই ওভারেই ২৫ রান দিয়ে বসেন মুস্তাফিজ। পরের ওভারে রিশাদও হাঁটেন একই পথে, তিনি দেন ১৬ রান। এতে ১৫ ওভারেই ১০০ ছাড়িয়ে যায় লঙ্কানদের সংগ্রহ। বাকি সময়েও চলে লঙ্কানদের ব্যাটিং দাপট। সেখানে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান তোলে তারা। ৩২ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় সর্বোচ্চ ৬৫ রান করেন থারিন্দু রত্নায়েকে। এছাড়া অধিনায়ক সাহান করেন ৩৭ রান।
অনেক নতুনদের নিয়ে ঢেলে সাজানো লঙ্কানদের বিপক্ষে শুরুটা ভালো পেলেও ইনিংসের শেষদিকে এসে খেই হারিয়ে বসে মুস্তাফিজ-রিশাদরা। তিন ওভার বল করে ২ উইকেট নিলেও মুস্তাফিজ দিয়ে বসেন ৪৩ রান। আর নিজের প্রথম দুই ওভারে ৯ রান দিয়ে বাকি দুই ওভারে ৩৭ রান দেন রিশাদ! ম্যাচটা যেন সেখানেই হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ, যার বাকি পথের হতাশা মিলিয়েছে ব্যাটাররা।