আট বছরেও শেষ হয়নি আইসিটি ভবনের নির্মাণ

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৩ এএম

হবিগঞ্জের মাধবপুরে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সম্পদ কেন্দ্র (আইসিটি) নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আট বছরেও এর কাজ শেষ হয়নি। ২০১৮ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রটি চালু হয়নি। এতে উপজেলার মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলা এবং শিক্ষাতথ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করার লক্ষ্যে নেওয়া সরকারের এ প্রকল্পে মাধবপুরে একটি প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা সম্পদ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় কম্পিউটার কক্ষ, তথ্যকেন্দ্র, সার্ভার কক্ষ, সভাকক্ষসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকার কথা।

সরকারি দরপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভবন নির্মাণ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ, স্থাপনসহ সংশ্লিষ্ট কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে ২০ মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের কয়েক গুণ পেরিয়ে গেলেও মাধবপুরের কেন্দ্রটির কাজ শেষ হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) ও দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পটি

বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের মূল ঠিকাদার হিসেবে রয়েছে বিওএফ কোরিয়া। ২০১৮ সালে কেন্দ্রটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও দীর্ঘ সময় নির্মাণকাজে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। ২০২২ সালের মার্চে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) সংশ্লিষ্টদের কাছে নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য চেয়ে চিঠি দেয়। এরপরও কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রটির কাজ কার্যত থমকে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বর্তমানে কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ আবার চলমান রয়েছে। ট্রাস্টেড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি নামের একটি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী রকিবুল ইসলাম রোমান বলেন, ‘আমরা জুন মাসে এখানে এসে কাজ শুরু করেছি। আমরা এসে শুধু ভবনের ভিত্তির কাজ সম্পন্ন অবস্থায় পেয়েছি। আমাদের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।’

মাধবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের কাছে নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও দীর্ঘসূত্রতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো তথ্য না দিয়ে সাইট প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

তবে এ ব্যাপারে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান বলেন, ‘আগে কী হয়েছে, না হয়েছে সেদিকে আমরা যাব না। তবে এখন যেহেতু কাজ চলমান আছে, তাই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই যাতে নির্মাণকাজ শেষ হয়, সেদিকে নজর রাখব।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত