চেনা শাপলার অজানা পরিচয়

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৪ এএম

বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচিত ও জনপ্রিয় ফুল হচ্ছে শাপলা। দেশের সব জায়গায়ই কমবেশি এ ফুল দেখা যায়। এটি Nymphaeaceae গোত্রভুক্ত জলজ উদ্ভিদ। শাপলা ফুলের সৌন্দর্য এক কথায় অতুলনীয়। পৃথিবীতে প্রায় অর্ধশত প্রজাতির শাপলা ফুল আছে। বাংলাদেশে সাদা শাপলাকে জাতীয় ফুলের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সাদা শাপলা ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Nymphaea nouchali|।

সাদা শাপলা সাধারণত বাংলাদেশসহ ভারত উপমহাদেশের দেশগুলোতে বেশি দেখা যায়। আমাদের দেশে সাদা শাপলাকে জাতীয় ফুলের মর্যাদার পাশাপাশি বাংলাদেশের টাকা-পয়সা, বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক ও  দলিলপত্রের ব্যবহৃত স্ট্যাম্পে জাতীয় ফুল শাপলা বা এর জলছাপ ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়ার দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কারও জাতীয় ফুল শাপলা। তবে শ্রীলঙ্কার জাতীয় ফুল নীল রঙের শাপলা। তাদের কাছে এ ফুল নীল মাহানেল নামে পরিচিত। এই জলজ উদ্ভিদের ফুলের বিবরণ সংস্কৃত, পালি ও শ্রীলঙ্কান ভাষার প্রাচীন সাহিত্যে পাওয়া যায়। শ্রীলঙ্কায় শাপলা হচ্ছে শ্রেষ্ঠতা, শৃঙ্খলা ও পবিত্রতার প্রতীক। শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধদের দৃঢ় বিশ্বাস গৌতম বুদ্ধের পায়ের ছাপে পাওয়া ১০৮টি শুভ চিহ্নের মাঝে একটি ছিল এই শাপলা ফুল।

গ্রিক দার্শনিক প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের এক শিষ্য থিউফ্রাস্টাস বলেছেন, শাপলা প্রায় ৩০০ ক্রিস্টপূর্ব পুরনো একটি জলজ উদ্ভিদ। প্রাচীন গ্রিকে জলদেবীদের এই ফুল উৎসর্গ করে উপাসনা করার রীতি ছিল। প্রাচীন মিসরে হাজার বছর ধরে সৌন্দর্যবর্ধন, খাদ্য ও ভেষজ চিকিৎসায় শাপলার ব্যবহার চলে আসছে। প্রাচীন ভারতে হিন্দুদের সর্পদেবী মনসা পূজায় শাপলা ফুল ব্যবহার করা হতো।

তবে বাংলাদেশে শাপলা হচ্ছে আবহমান গ্রামবাংলার প্রতীক। আমাদের দেশে সাধারণত সাদা শাপলার আধিক্য দেখা গেলেও গোলাপি, নীল ও বেগুনি রঙের শাপলাও দেখা যায়। এখানে বর্ষা ও শরৎ ঋতু শাপলা জন্মানোর শ্রেষ্ঠ সময়। শাপলার কান্ড বা ডাটা বা পুষ্পদন্ড সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। শাপলা ফুল ভোর বেলা ফোটে এবং দিনের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাপড়ি বুজে যায়। পাতাগুলো গোল এবং সবুজ রঙের হয়, কিন্তু নিচের দিকে কালো রঙ। পূর্ণবিকশিত শাপলা ফুলের গর্ভাশয়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বীজ থাকে। এটিকে ভেট বলা হয়। ভেট থেকে আঠালো বীজ সংগ্রহ করে রোদে শুকিয়ে ওই বীজ ভেজে এক ধরনের খাবার খৈ তৈরি হয়, যার নাম ‘ঢ্যাপের খৈ’। শাপলার গোড়ায় থাকে আলুর মতো এক ধরনের কন্দ, যার নাম শালুক, অনেকে এটিকে সিদ্ধ করে সবজি হিসেবে খেয়ে থাকে।

তবে বর্তমানে শৌখিনতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য বাগানের জলাধার বা অ্যাকোয়ারিয়ামে শাপলা গাছ লাগানো খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত