শিক্ষার্থীদের শুধু বইমুখী না রেখে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্রীড়াকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী বছর থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলাকে স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষা কার্যক্রমে ক্রীড়াকে সরাসরি সম্পৃক্ত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যেই আগামী বছর থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই খেলাধুলাকে একটি স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের প্রায় ৩০ হাজার স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এবারের গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রাথমিক ধাপে অংশ নিয়েছে। দাবা, হ্যান্ডবল, সাঁতার ও কাবাডি—এই চারটি খেলায় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ক্রীড়াকে শুধু সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে নয়, শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও শারীরিক সক্ষমতার বিকাশ ঘটবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খেলাধুলাকে আরও গুরুত্ব দেবেন। শিক্ষার্থীরা তাদের মেধা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্রীড়াকে অনিবার্য উপকরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা একটি বড় পদক্ষেপ। এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। প্রধানমন্ত্রী ‘প্রাইম মিনিস্টার গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন। এটিও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে।
বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি জাতীয় ক্রীড়া সমিতির আয়োজনে এবং কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনউদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল।