আদালতের আদেশ অমান্য করে প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের মিরপুরের গোড়ান চটবাড়ি মৌজার ৩৮১.৭৫ শতাংশ সম্পত্তি জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড সুপ্রতিষ্ঠিত একটি বেসরকারী ইসলামী জীবন বীমা কোম্পানি। যার বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৯ লাখ। ২০০০ সালে রেজিষ্ট্রেশন গ্রহণ ও ২০০১ সাল থেকে গ্রাহক সেবার উদ্দেশ্য তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করে আসছে। দীর্ঘ ২৫ বছর যাবত সুনাম ও গ্রাহক আস্থার মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছে। প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০১৬ সালে মিরপুর গড়ান চটবাড়ী মৌজায় ৬৮০৪ এবং ৬৬০৩ নং দাগের ৩৮১.৭৫ শতাংশ জমি আইডিআরএ(ইড্রার)র অনুমোদন নিয়ে ক্রয় করে এবং যথাযথ ভাবে নামজারি করে ও খাজনা দেয়ে ভোগ দখল করছে। পাশাপাশি ২০২০ সাল থেকে টিভিএস-এর নিকট ভাড়া প্রদান করা হয়েছে।
গত ২৯-০৪-২০২৬ তারিখ হঠাৎ উক্ত দাগের সম্পত্তি নিয়ে মো. আনিসুল ইসলাম (নাজমুল) এর নেতৃত্বে আক্তার জাহান (রাইসা সুলতানা) গং বাদী হয়ে প্রাইম ইসলামী লাইফ গংদের নামে নির্বাহী ম্যাজিজেস্ট্রট আদালত, ঢাকায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর ৮ ধারায় মামলা ৪০/২৫ নং মামলা দায়ের করেন। আমাদের কোন প্রকার সমন জারি/নোটিশ না করে মামলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এক তরফা আদেশ প্রদান করেন।
এই আদেশের বিরুদ্ধে কোম্পানির পক্ষ হতে বিজ্ঞ মহানগর দায়রা আদালত ৮৪৩/২৬ নম্বর ফৌজদারী রিভিশন মামলা দায়ের করা হয়। শুনানী অন্তে মহানগর দায়রা আদালত আদেশ প্রদান করেন। উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনে ২৬/০৭/২০২৬ তারিখে ফৌজদারী বিবিধ মোকদ্দমা দায়ের করা হয়। যাহার টেন্ডার নং-৬০৩২৪/২৬ ও মামলা নং ৪৬৮৭০/২৬ আদালত নং- এ্যানেক্স ৪।
মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন শুনানী অন্তে ২৯/০৭/২০২৬ তারিখে রুল এবং পরবর্তী আদেশের বিপরীতে স্টে অর্ডার প্রদান করেন। উল্লেখিত অর্ডার সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে পত্র মারফত অবগত করা হয়। আদালতের রুল এন্ড স্টে বহাল থাকা অবস্থায় মিসেস আক্তার জাহান (রাইসা সুলতানা) গং গত ০১/০৮/২০২৬ তারিখে সময় আনুমানিক সকাল ১০:৩০ মিনিটে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কোম্পানির জমি সুরক্ষায় তৈরীকৃত দেয়াল ভেঙ্গে লোহার গেট প্রতিস্থাপনসহ বাঁশ এবং টিন দিয়ে কোম্পানির জায়গার কিছু অংশ জোর পূর্বক ঘেরাও দেয়। এ বিষয়ে ০৬/০৮/২০২৬ইং তারিখে অনলাইনে সাধারণ ডায়েরী করা হয়।
যাহার আবেদন ট্রাকিং নং এনইওজি ৩৯।
গত ১৯/০৯/২০২৬ তারিখে পুনরায় মিসেস আক্তার জাহান (রাইসা সুলতানা) গংয়ের পক্ষের মো. আনিসুল ইসলাম (নাজমুল) মিরপুর অঞ্চলের চিহ্নিত ভুমিদস্যু ও সন্ত্রাসী লোকজন নিয়ে সরকারী দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কোম্পানির ভাড়াটিয়া টিভিএস-এর শেডে প্রবেশ করে এবং পরবর্তী দু’একদিনের মধ্যে উচ্ছেদ করা হবে মর্মে স্থানীয় সিকিউরিটি গার্ড মিঠু (মোবাইলঃ ০১৩১৬৬০৯৩৬৫) হুমকি ধামকি প্রদান করে।
এবিষয়ে গত ২২/০৯/২০২৬ তারিখে মিরপুর শাহআলী থানায় ১২৮০ নং জিডি করা হয়। গত ২৪/০৯/২০২৬ তারিখে আক্তার জাহান রাইসা সুলতানা গংয়ের পক্ষে মো. আনিসুল ইসলাম (নাজমুল) সন্ত্রাসী প্রকৃতির ৫০-৬০ জন লোকবল ও নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে পুনরায় প্রবেশ করে এবং জোর পূর্বক স্থায়ী ভাবে ওয়াল নির্মাণ কাজ শুরু করেন। বিষয়টি উক্ত জমির আওতাধীন মিরপুর শাহআলী থানাকে অবগত করা হলেও তারা কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই।
সর্বশেষ স্থানিয় ভূমি অফিসে যোগাযোগ করে পুনরায় অবহিত করা হয়। এ বিষয়ে তেমন কোন সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা বা তাদের কোন তড়িৎ কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায় নাই। লাখ লাখ বীমা গ্রাহকের অর্থে ক্রয় করা জমি আদালতের নির্দেশ অমান্য করে জোর পূর্বক দখল করার চেষ্টা করছে। যার ফলে লাখ লাখ বীমা গ্রাহক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
একই সঙ্গে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন, ঘটনার তদন্ত এবং শাহ আলী থানা পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছি।
আলোচ্য ৩৮১.৭৫ শতাংশ সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে প্রাইম ইসলামী লাইফ বৈধভাবে ভোগদখল করে আসছে। কোম্পানির কাছে সম্পত্তির মালিকানার স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র নামজারী ও খাজনার রেকর্ড রয়েছে এবং কোম্পানি ভাড়া পেয়ে আসছে।
জনৈক আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুল হঠাৎ ওই সম্পত্তির ওপর দাবি উত্থাপন করেন। তিনি স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ভাই হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। আমরা চাই, সাংবাদিকরা দলিলপত্র, আদালতের আদেশ প্রর্যালোচনা করে, ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনা এবং পুলিশের ভূমিকা অনুসন্ধান করে প্রকৃত সত্য তুলে ধরুন।