ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) সদস্যদের ওপর গত ২৩ এপ্রিল শাহবাগ থানার অভ্যন্তরে হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি সাড়ে পাঁচ মাস পর প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনটি আগামী সিন্ডিকেট সভার এজেন্ডাভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে উপাচার্যের কার্যালয়ে সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দ তদন্ত প্রতিবেদনের অগ্রগতি জানতে উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় উপাচার্য জানান, প্রক্টর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন এবং বিষয়টি আগামী সিন্ডিকেট সভার জন্য এজেন্ডাভুক্ত হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদনে ওই ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কেউ মন্তব্য করেননি।
গত ২৩ এপ্রিল পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে শাহবাগ থানার ভেতরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির অন্তত ১০ সদস্য হামলার শিকার হন। পরে এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করতে চাইলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। এ হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে তখন অভিযোগ ওঠে।
ঘটনা তদন্তে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুব কায়সারকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা বলা হয়।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে ডুজার সভাপতি মানজুর হোসাঈন মাহি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি গঠনকালীন সময়ে আমরা দাবি জানিয়েছিলাম, যাতে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। কিন্তু পাঁচ মাস পার হয়ে গেলেও আমরা কোনো প্রতিবেদন পাইনি। আজ উপাচার্য স্যার জানিয়েছেন, অবশেষে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে। আগামী সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
প্রশাসনের ধীরগতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, হামলার ভিডিও ফুটেজ, গণমাধ্যমের প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংরক্ষিত থাকা এবং হামলাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট হওয়ার পরও তদন্ত শেষ করতে পাঁচ মাস লাগার কোনো সদুত্তর প্রশাসন দিতে পারেনি। এই বিচারহীনতার কারণেই অন্যান্য ক্যাম্পাসেও সাংবাদিকদের ওপর হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডুজা সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচার দ্রুত হলে পরবর্তীতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা করার সাহস কেউ পেত না। তাই এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও দায় এড়াতে পারে না।’
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সহসভাপতি মাহাথির মোহাম্মদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাহাদ উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক এইচ এম খালিদ হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।