আলতা বাঙালি নারীর সাজের প্রাচীন অনুষঙ্গ। ঠিক কবে থেকে আলতার ব্যবহার শুরু, তার নির্দিষ্ট সময়কাল জানা যায়নি। ভারতীয় উপমহাদেশে বহু বছর ধরে হাত-পা সাজাতে আলতা ব্যবহার হয়ে আসছে। ভারতীয় সাজসজ্জা ও লোকজ সংস্কৃতিতে পায়ের পাতায় লাল রঙ ব্যবহারের নানা নিদর্শন পাওয়া যায়। একসময় প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি হলেও বর্তমানে বাজারে রাসায়নিক উপাদানে তৈরি তরল আলতাই বেশি প্রচলিত।
বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারীরা বিশেষ করে পা সাজাতে আলতা ব্যবহার করেন। বিয়ের কনে, নববধূ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী নারী ঐতিহ্যবাহী আবহ আনতে আলতা পরেন। পায়ের পাতার কিনারা, আঙুল কিংবা নখের চারপাশে আলতার নকশা সাজে আলাদা সৌন্দর্য যোগ করে। শুধু বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার আরও কিছু অঞ্চলের লোকজ ও ঐতিহ্যবাহী সাজে লাল রঙের অনুরূপ প্রসাধন দেখা যায়। তবে আলতার সবচেয়ে পরিচিত সাংস্কৃতিক ব্যবহার বাঙালি সমাজেই। দুর্গাপূজা, পহেলা বৈশাখ, বিয়ে, অন্নপ্রাশনসহ নানা উৎসব ও সামাজিক আয়োজনে আলতার ব্যবহার এখনও জনপ্রিয়। আধুনিক প্রসাধনের ভিড়েও আলতা তাই কেবল সাজের উপকরণ নয়; বাঙালির ঐতিহ্য, নারীর সৌন্দর্যচেতনা ও উৎসবের আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক অনুষঙ্গ।