সহিংস বিক্ষোভে রণক্ষেত্র ফ্রান্স

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০০ এএম

বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নত করা এবং শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। গত মঙ্গলবার দেশজুড়ে আয়োজিত বড় বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক অংশ নেন। রাজধানী প্যারিস ছাড়াও মার্সেই, লিওঁ, নান্তেস ও রেনের মতো প্রধান শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন স্থানে রায়ট পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ ও ব্যাপক লাঠিচার্জ করেছে। এতে কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র সংঘাত ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লোকর্নু শিক্ষার্থীদের চলমান এই আন্দোলনকে ‘কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সহিংস বিক্ষোভ বলে মন্তব্য করেছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কয়েক ডজন শহরে হওয়া মিছিলগুলোতে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ যোগ দিয়েছে। এর মধ্যে শুধু প্যারিসেই পদযাত্রা করেন প্রায় ৫৬ হাজার মানুষ। কিন্তু আয়োজকদের ধারণা অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের সংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ লাখের কাছাকাছি। এই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ফ্রান্সের হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের প্রধান ছাত্র সংগঠন উঁনিয়ঁ সাঁদিকাল লিসিয়েন (ইউএসএল) জানিয়েছে, এদিন প্রায় দুই হাজার হাইস্কুল অবরুদ্ধ অথবা বন্ধ ছিল। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার প্রায় ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্তত ৪৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আন্দোলন শুরুর পর দুই সপ্তাহের বেশি সময়ে প্রায় ছয় হাজার ১০০ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের প্রায় সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক। বর্তমানে ১ হাজার ৮০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৫০০ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এলিসি প্যালেসে তাঁর মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ পুলিশের ভূমিকার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, প্রায় সব ক্ষেত্রেই পুলিশের প্রতিক্রিয়া ছিল আনুপাতিক। তবে অনেক স্থানে বিক্ষোভ দাঙ্গায় রূপ নেওয়ায় পুলিশ কঠোর হতে বাধ্য হয়েছে। তবে বিক্ষোভে পুলিশের বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ফরাসি কর্র্তৃপক্ষের পদক্ষেপকে আনুপাতিকতাহীন দমনপীড়ন হিসেবে উল্লেখ করে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। অ্যামনেস্টি ফ্রান্সের প্রধান আন সাভিনেল-বারাস জানান, গত এক সপ্তাহে প্রকাশ্যে আসা ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে টিয়ারগ্যাস, লাঠি এবং মারাত্মক পুলিশি কৌশল ব্যবহারের বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তীব্র চাপের মধ্যে পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত বিভাগ ১০টি ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

প্যারিসের প্লাস দে লা নেশন চত্বরে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী অ্যানা জানান, তাদের দাবি লেখাপড়ার উন্নত পরিবেশ, পর্যাপ্ত শিক্ষক এবং ভালো স্কুল ভবন নিশ্চিত করা। তার অভিযোগ, কর্র্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ছিল চরম বিপর্যয়কর এবং সহিংসতায় ভরা। মার্সেই শহরের শিক্ষার্থী ওশিয়ান জানান, তিনি বছরের পর বছর শিক্ষকবিহীন শ্রেণিকক্ষে বসেছেন। অনুপস্থিত শিক্ষকদের পরিবর্তে কোনো যোগ্য বিকল্পও দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় অনেক শিক্ষকও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। রেন শহরের শিক্ষক রোমেন দুবার্গ জানান, তারা পুলিশি বলপ্রয়োগের প্রত্যক্ষদর্শী হয়ে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার জন্য সহকর্মীদের নিয়ে রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত