পানিতে ভেজা ভারী মাঠ, আর শুরু থেকেই রবিনহো-সাব্বিরদের টর্নেডো আক্রমণ। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় যেন এক পশলা গোলবন্যার পসরা বসেছিল। কদিন আগেই ফেডারেশন কাপে ঢাকা ওয়ান্ডারার্সকে পাঁচ গোল দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছিল কিংসরা। তবে এবারের বাংলাদেশ ফুটবল লিগের লড়াইয়ে সেই ব্যবধানকেও ছাড়িয়ে গেল তারা। মোহাম্মদ সাব্বিরের দারুণ হ্যাটট্রিক আর মাঠজুড়ে দাপুটে পারফর্মে ওয়ান্ডারার্সকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে বসুন্ধরা কিংস।
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর ঘড়ির কাঁটা ঠিক ২৪ সেকেন্ড পার হতেই স্কোরবোর্ডে গোলের খাতা খুলে ফেলেছিল স্বাগতিকরা। বৃষ্টিভেজা ও পিচ্ছিল মাঠে ডানপ্রান্ত থেকে রাকিব হোসেনের বাড়ানো ক্রসে জটলার ভেতর থেকে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন নেপালি ফরোয়ার্ড মনীশ দাঙ্গি।
এই দ্রুতগতির গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই, ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সাব্বির। নিজেদের অর্ধ থেকে ইউসুফ আলীর লম্বা ফ্রি-কিক বুক বাগে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের দারুণ কোনাকুনি শটে ওয়ান্ডারার্সের রক্ষণ ভেদ করেন তিনি।
প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে ওয়ান্ডারার্সের দুর্গে নেমে আসে আরও বড় বিপর্যয়। বক্সের বাইরে হাত দিয়ে বল প্রতিহত করার দায়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন গোলরক্ষক জসিম উদ্দিন। গোল হজমের পাশাপাশি গোলকিপার হারিয়ে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া দলটি প্রথমার্ধেই সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের কোনো মুহূর্তও ছিল না সফরকারীদের পক্ষে। ম্যাচের ৪৯ মিনিটে রবসন রবিনহোর নিখুঁত থ্রু পাস ধরে এগিয়ে গিয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি তুলে নেন সাব্বির।
তবে এর খানিক বাদেই দেখা মিলল অদ্ভুত এক চিত্রের। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে সৌরভ বিক্রমকে তুলে নিয়ে আরেক গোলরক্ষক তানভীর আহমেদকে মাঠে নামায় তারা। একই ম্যাচে তিন গোলরক্ষক নামিয়েও গোলের বন্যা এড়াতে পারেনি দলটি।
এরপরও ওয়ান্ডারার্সের জালে একে একে গোল উৎসব চালায় কিংসের ফরোয়ার্ডরা। ৬৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন রাকিব। ৮০ মিনিটে রবিনহোর আরেকটি চমৎকার ক্রস থেকে বল পেয়ে স্কোরশিটে নাম লেখান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
আর ম্যাচের শেষ মুহূর্তে রাকিবের অ্যাসিস্ট থেকেই নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাব্বির, এর ঠিক আগে ৮৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটিও তুলে নেন রাকিব। এই জয়ে দুই ম্যাচে কিংসের পয়েন্ট দাড়াঁল চার। আর পয়েন্ট তালিকায় তারা আছেও চার নম্বর পজিশনে।
প্রথম দিনের শুরুতে দাপট, শেষটায় এলোমেলো বাংলাদেশ
ব্রাদার্সের জালে ছয় গোলের উৎসব ফর্টিজের