ন্যানো প্রযুক্তির সমন্বয়ে গিরগিটির রূপ বদল

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫২ এএম

অনেকের ধারণা, গিরগিটি শুধু লুকানোর জন্য রঙ বদলায়। কিন্তু গবেষণায় রূপ বদলের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। মূলত ত্বকে থাকা ন্যানো-ক্রিস্টালের কারসাজি এটি। তাদের ত্বকে ‘ইরিডোফোরস’ নামের বিশেষ কোষ স্তর রয়েছে। গিরগিটি যখন মনের ভাব পরিবর্তন করে, তখন ত্বকের ক্রিস্টালগুলোর মধ্যে ব্যবধান বাড়ায় বা কমায়। যখন গিরগিটি শান্ত, তখন ক্রিস্টালগুলো একে অপরের কাছাকাছি থাকে। এর ফলে তারা নীল বা সবুজ আলো প্রতিফলিত করে। যখন গিরগিটি উত্তেজিত হয়, তখন ত্বক প্রসারিত হওয়ার ফলে ক্রিস্টালগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব বেড়ে যায়। যে কারণে বেশি তরঙ্গদৈর্ঘ্যরে আলো হলুদ, কমলা বা লাল আলো প্রতিফলিত করে। গিরগিটির ত্বকে ওপরের স্তরে থাকে জ্যান্থোফোর (হলুদ) এবং ইরিথ্রোফোর (লাল) রঞ্জক কোষ। নিচের স্তরে থাকে মেলানোফোর কোষ, যা কালো বা বাদামি রঙ তৈরি করে। পুরুষ গিরগিটি আধিপত্য প্রকাশ করতে উজ্জ্বল লাল বা হলুদ রঙ ধারণ করে। শীতল রক্তের প্রাণী হওয়ায় তারা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। যখন শীত লাগে তখন কালো রঙ ধারণ করে, যা সূর্যের আলো ও তাপ বেশি শোষণ করে। গরম লাগলে, উজ্জ্বল রঙ ধারণ করে আলো প্রতিফলিত করে শরীর ঠান্ডা রাখে। বিশ্বের বেশিরভাগ প্রজাতির গিরগিটি ডিম পাড়ে। কিছু গিরগিটি বাচ্চা জন্ম দেয়। তাদের আয়ু সাধারণত ২-১০ বছর। গিরগিটির রূপ বদল স্নায়ুতন্ত্র, হরমোন এবং ত্বকের ভেতরের ন্যানো-প্রযুক্তির অসাধারণ প্রাকৃতিক সমন্বয় । 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত