শিশুদের অংশগ্রহণে ছায়ানটের শরৎ উৎসব

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫২ এএম

নীল আকাশে সাদা তুলোর মতো মেঘ জানান দিচ্ছে শরৎ এসেছে ধরায়। বদলে গেছে প্রকৃতি। মৃদুমন্দ বাতাসে দোল খাচ্ছে নদীর কূল ঘেঁষে কাশের গুচ্ছ। প্রকৃতিতে শরতের এই অপার সৌন্দর্যের বন্দনায় মেতেছিল রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থী এবং ছায়ানটের শিল্পীরা।

গতকাল শুক্রবার সকালে মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের সঙ্গে যৌথভাবে শরতের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ছায়ানট। প্রতিপাদ্য ছিল ‘যোগ দে রে আজ সমান তানে’। অনুষ্ঠান হয় সেন্ট যোসেফ স্কুল প্রাঙ্গণে।

অনুষ্ঠান শুরু হয় রবীন্দ্রসংগীত ‘শরতে আজ কোন অতিথি এল প্রাণের দ্বারে’ দিয়ে। এ আয়োজনে অংশ নেয় সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল, সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, এক্সেল একাডেমি, নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয় ও ছায়ানট। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত, গান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও ছায়ানটের শিল্পীরা।

নালন্দা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিবেশনায় ছিল সম্মেলক নৃত্যগীত ‘আলোর অমল কমলখানি’, বৃন্দ আবৃত্তি ‘শরৎ’ ও ‘সবার আমি ছাত্র’। একক গানে সুদর্শনা অলকানন্দা কু-ু পরিবেশন করেন ‘ভোরের ঝিলের জলে’। মেহেরিন ফাতেমা পরিবেশন করেন ‘তোমরা যা বলো তাই বলো’।

এক্সেল একাডেমির পক্ষ থেকে একক গানে অরুণাভ দে পরিবেশন করেন ‘তোমার মোহন রূপে’। ইপ্সিতা সিকদার পরিবেশন করেন ‘শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি’।

সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিবেশনায় ছিল সম্মেলক গান ‘কোন খেপা শ্রাবণ ছুটে এল’ এবং বৃন্দ আবৃত্তি ‘কোন শরতে পূর্ণিমা-চাঁদ’। একক আবৃত্তিতে ইজমির মুস্তাফিজ পরিবেশন করেন ‘এসেছে শরৎ হিমের পরশ’।

সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের পক্ষ থেকে একক গানে সার্থক সাহা পরিবেশন করেন ‘এসো শারদ প্রাতের পথিক’। বাঁধন কু-ু পরিবেশন করেন ‘হৃদয়ে ছিলে জেগে’ এবং দিব্যময় দেশ পরিবেশন করেন ‘মেঘেরা দল বেঁধে যায়’।

ছায়ানটের পরিবেশনায় ছিল সম্মেলক নৃত্যগীত ‘ওগো শেফালিবনের মনের কামনা’। একক গানে অঙ্কিতা সরকার পরিবেশন করেন ‘অমল ধবল পালে লেগেছে’, শতদ্রু সরকার ‘আমার নয়ন ভুলান এলে’, প্রেমা দেওয়ানজী ‘হে ক্ষণিকের অতিথি’ এবং পার্থিব সাহা ‘শিউলি ফুল, শিউলি ফুল’। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সব প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে সম্মেলক নৃত্যগীত ‘আজ ধানের ক্ষেতে’ পরিবেশিত হয়।

ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা বলেন, শরৎ উৎসবকে আরও বেশি শিশুর অংশগ্রহণে আনন্দমুখর করে তুলতে গত বছর থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশুদের সম্পৃক্ত করেছে ছায়ানট। গত বছর নালন্দা বিদ্যালয়, ছায়ানটের শিশু এবং সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। এবার যুক্ত হয়েছে সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও এক্সেল একাডেমি। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে শরৎ উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এই উৎসবের মধ্য দিয়ে শিশুরা শরতের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনাও ধারণ করতে শিখবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত