আজ শুভ মহালয়া 

দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন শুরু

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৩ এএম

আজ শুভ মহালয়া। সনাতন সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পূণ্য লগ্ন বা সূচনালগ্নে ‘দেবীপক্ষ’র শুরু। দেবী দুর্গার আগমনী সুর বেজে উঠেছে আজ থেকে। দেবী দুর্গা আজ মর্ত্যলোকে পা রাখছেন। সঙ্গে নিয়ে আসছেন তার সন্তান গণেশ, সরস্বতী, লক্ষ্মী আর কার্তিককে। সনাতন শাস্ত্রমতে চ-ীপাঠ ও পূজার্চনার মাধ্যমে দেবী দুর্গার আবাহনই মহালয়া। এ শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘আনন্দ নিকেতন’। শাস্ত্রমতে, মহালয়ায় ঘোর অমাবস্যা থাকে। তবে, দেবী দুর্গার তেজের আলোয় অমাবস্যা দূর হয়ে প্রতিষ্ঠা পায় শুভ শক্তির আলো। এর মাধ্যমে উৎসব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আজ সারা দেশের স্থায়ী, অস্থায়ী পূজাম-গুলোতে নানা আচার ও অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহালয়া উদযাপিত হবে। আজ ভোর থেকে পূজাম-পগুলোতে চ-ী পাঠ, ঢাকের বোল, পূজার্চনা ও প্রার্থনার মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে আহ্বান করা হবে।

পুরাণ মতে, অসুর শক্তির কাছে দেবতারা পরাভূত হয়ে স্বর্গলোকচ্যুত হওয়ার পর  অসুর ও অশুভ শক্তির প্রভাব, প্রতাপ শুরু হয়। সেই অশুভ শক্তিকে পরাভূত করতে একত্রিত হন স্বর্গের দেবতারা। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব ত্রয়ী সম্মিলিতভাবে ‘মহামায়া’র রূপে অমোঘ শক্তি সৃষ্টি করেন। তাদের তেজরশ্মী থেকে আবির্ভূত হন দেবী দুর্গা। দেবতাদের দেওয়া দশটি অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে দেবী দুর্গা অসুর বিনাশ ও বধ করেন।

মহালয়ার পরে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা অনুযায়ী, মহালয়ার পর ২৮ আশি^ন (১৬ অক্টোবর) শুক্রবার ষষ্ঠী পূজায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শুরু হবে মূল আনুষ্ঠানিকতা। এবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে তিথির সম্পর্কের কারণে মহাসপ্তমী পূজা হবে দুই দিনে। ২৯ আশি^ন (১৭ অক্টোবর) শনিবার ও ৩০ আশি^ন (১৮ অক্টোবর) রবিবার মহাসপ্তমী, ১ কার্তিক (১৯ অক্টোবর) সোমবার মহাষ্টমী, ২ কার্তিক  (২০ অক্টোবর) মঙ্গলবার মহানবমী অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৩ কার্তিক (২১ অক্টোবর) বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।  

আজ মহালয়ার দিনে জাতীয় ঢাকেশ^রী মন্দিরে ভোর ৬টা থেকে পূজার্চনা, প্রার্থনা ও অন্যান্য আচার শুরু হবে। সকাল সাড়ে ৭টায় পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় তিল তর্পণ অনুষ্ঠান, সকাল ৯টায় মহালয়ার ঘট স্থাপন ও বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকেশ^রী মন্দিরে মহালয়ার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এ ছাড়া ঢাকায় রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, রমনা কালী মন্দির, রামসীতা মন্দির, জয়কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজাম-পে ভোর থেকে চ-ীপাঠ, পূজার্চনার মধ্য দিয়ে মহালয়া উদযাপিত হবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য মতে, এবার সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজাম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গতবারের চেয়ে এবার প্রায় দেড় হাজার বেশি পূজাম-প বেড়েছে। দুর্গাপূজাকে ঘিরে ইতিমধ্যে আয়োজকদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ম-পগুলোতে প্রতিমা নির্মাণ, প্যান্ডেল স্থাপন ও আলোকসজ্জার কাজ চলছে পুরোদমে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত