চকরিয়ায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ, গৃহবধূর মৃত্যু

তিন লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে মারধরের অভিযোগ, চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু গৃহবধূর।

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০০ এএম

কক্সবাজারের চকরিয়ায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মরিয়ম বেগম (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার দিবাগত রাত ২টা ৯ মিনিটে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মরিয়ম চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সরওয়ার আলম ও ফোরকানারা বেগমের মেয়ে। প্রায় চার বছর আগে লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভাইয়ারপাড়ার বাসিন্দা গোলাম রসুলের ছেলে ফরহাদ হোসেনের (৩০) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, বিয়েতে প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করা হয়েছিল।

মরিয়মের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের জন্য তার ওপর চাপ দেওয়া হতো। গত ৪ অক্টোবর তিন লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে তাঁকে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর মাকে ফোন করে মেয়েকে নিয়ে যেতে বলা হয়।

পরদিন ৫ অক্টোবর মরিয়মের মা চরম্বায় গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয়।

চরম্বা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শওকত বলেন, মরিয়মের পারিবারিক বিরোধ নিয়ে তিনি একাধিকবার সালিশ করেছেন। ৪ অক্টোবরের ঘটনার বিষয়েও তিনি অবগত।

কাকারা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা শোয়াইবুল ইসলাম এমএ বলেন, মরিয়ম স্থানীয় টমটমচালক সরওয়ার আলমের একমাত্র মেয়ে। তার জানা মতে, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে মরিয়মের কাছে যৌতুক দাবি করা হতো। গত ৪ অক্টোবর তিন লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মরিয়মের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেও দাবি করেন শোয়াইবুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত