দিল্লিতে বাড়ির সামনে ধর্নায় বসে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দুপুরে দিল্লি পুলিশ তাকে ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। তার সঙ্গে আটক করা হয়েছে তৃণমূলের সাংসদ দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েন, শামিরুল ইসলাম ও সাকেত গোখলেকে।
আনন্দবাজার জানায়, তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ আটকে দিয়েছে। কোনো রকম প্রতিবাদও করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি সাংসদদের নিয়ে বাড়ির সামনেই বসে পড়েছেন। এর কিছুক্ষণ পরই তাকে আটকের খবর আসে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে একইভাবে আটক করা হয় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) তিন শীর্ষ নেতাকে। মুম্বাই থেকে দিল্লিগামী বিমানে ছিলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে বিমানটি দিল্লি বিমানবন্দরে নামতেই বিমানের ভেতরে ঢুকে তাদের আটক করে পুলিশ। আগে থেকেই বিমানবন্দরে অপেক্ষায় ছিল দিল্লি পুলিশের দক্ষিণ-পশ্চিম জেলার দল। সঙ্গে ছিলেন নারী পুলিশ সদস্যরাও।
বিমানের ভেতর থেকেই ইনস্টাগ্রাম লাইভে আসেন সিজেপি নেতারা। সেখানে পুলিশের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা দেখা যায়। দীপকে বলেন, গ্রেপ্তার হবেন জেনেই দিল্লিতে এসেছেন। ভয় পান না। পরে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিনজনকে তিনটি আলাদা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দীপকেকে গুরুগ্রামে, সৌরভকে দিল্লিতে এবং রাঙ্কাকে দ্বারকায় রাখা হয়েছে।
এদিন সকালে আটক করা হয় আইসার সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরাকেও। সিজেপির কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লির পথে যাচ্ছিলেন তিনি।
শুধু নেতা নন, আইনজীবীরাও আটক হয়েছেন। সিজেপির কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বহু আইনজীবীকে আটক করা হয়। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন। সিজেপির আইনি বিষয় দেখা আইনজীবী রত্না সিংহকেও আটক করা হয়েছে।
এদিকে মুম্বাইয়ের বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীকে। সিজেপির সমর্থনে আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। তার আগেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ডিএন নগর থানায়।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে সিজেপির কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। শনিবার সকালে দিল্লি পুলিশ একটি ভিডিও পোস্ট করে। তাতে ফাঁকা যন্তর মন্তর ও আশপাশের রাস্তা দেখা যায়। ক্যাপশনে লেখা হয়, তাদের জন্য, যারা শহরে শান্তি চান। সকাল থেকে যন্তর মন্তর এলাকায় মাইকিং করছে পুলিশ। বলা হচ্ছে, কর্মসূচির অনুমোদন নেই, জড়ো হলে আটক করা হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল নজিরবিহীন। যন্তর মন্তরগামী রাস্তায় সাত স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়। কাছের ব্যারিকেডগুলো ঝালাই করে দুর্ভেদ্য প্রাচীর তৈরি করা হয়। রাস্তায় বসানো হয় স্টিলের কাঁটা। কর্মসূচির প্রতিটি মুহূর্ত ভিডিও করার জন্য ভিডিওগ্রাফার ও চিত্রগ্রাহক রাখা হয়। অনেক পুলিশ সদস্যের শরীরে ছিল বডিক্যাম। আকাশে উড়ছে ড্রোন। পুলিশের দাবি, আগে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছিল, তাই এবার প্রমাণ রাখতে এই ব্যবস্থা।
এ ছাড়া হোটেলগুলোতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এয়ার বিএনবি ও বাড়ির মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে, যাতে আন্দোলনকারীদের ঘর ভাড়া না দেওয়া হয়। কনট প্লেস থেকে পাঁচটি বাসে করে বহু আন্দোলনকারীকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিজয়ন, বৃন্দা, ব্রিট্টাসহ আটকদের ছত্রসাল স্টেডিয়ামে রাখা হয়েছে।
যাতায়াতেও কড়াকড়ি। দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে রাজীব চক, পটেল চক ও কাশ্মীরি গেট। প্রথমে ৫৭টি স্টেশন বন্ধের কথা বলা হলেও সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যের পর সংখ্যা কমানো হয়। শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে আসা সব মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিন শীর্ষ নেতা আটক হলেও আন্দোলন থামবে না। নেতা ছাড়াই আন্দোলন চলবে। আটক হওয়ার সময় দীপকে বলেন, দেশে জরুরি অবস্থার সময় ইন্দিরা গান্ধীও এমন করেননি। আমরা গ্রেপ্তার হতে প্রস্তুত। আগে থেকে রেকর্ড করা এক ভিডিও বার্তায় দীপকে জানান, তারা আটক হলে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন অজিঙ্ক শিন্দে। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশের পদত্যাগ।
দিল্লির বিক্ষোভ ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা, ট্রেনের পর বন্ধ ইন্টারনেট
দিল্লির পর বেঙ্গালুরুতে বিক্ষোভের ঢেউ